সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিকাশকে কেন্দ্র করে প্রতারক চক্র। বিকাশ গ্রাহকদের অসতর্কতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নানা কৌশলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রের সদস্যরা। সুলভ মূল্যে ফ্ল্যাট, প্লটের অফার, অপহরণ, মানবপাচার, চুরি, হ্যাকিং, সিম রিপ্লেস, ন্যাশনাল আইডি জালিয়াতি, ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
জিনের বাদশা অফার, বিকাশ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা, লটারিতে বিজয়ী বলে টাকা পাঠানোর অফার দেয়া হয়। ভুয়া ম্যাসেজ দিয়ে টাকা ফেরত চাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে নতুন করে। তবে যারা সচেতন ও সতর্ক থাকছেন তারা বেঁচে যান এই প্রতারণার ফাঁদ থেকে।
ঠিক তেমনীভাবে এবার ধরা খেলো প্রতারক চক্র। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান মোবাইল ফোন, সীমকার্ড ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিসহ বিকাশ প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে মাদকসহ আটক করেছে মাদারীপুর র্যাব ৮। আজ রবিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুরের জেলার ভাঙ্গা থানাধীন রায়নগর এলাকার একটি চক্র মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে রবিবার (৭ অক্টোবর) মধ্যেরাতে রায়নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন প্রতারককে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হল – ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার ফজলুল রহমানের ছেলে মোঃ মোস্তাাফিজুর রহমান (২৭), একই এলাকার মতলেব মাতুব্বরের ছেলে মোঃ শফিকুল (২০), তাদের কাছ থেকে ৩৫০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত ১টি ট্যাবলেট ফোন, ৯ টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ১২০ টি সীমকার্ড এবং প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ১০ হাজার ৭শত পঞ্চাশ টাকা জব্দ করা হয়।
একই রাতে একই থানার পাতরাইল এলাকা থেকে রিয়াজ হোসেন (২৬) নামে আরও একজনকে ৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ বোতল ফেন্সিডিল এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৬টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের ২১১ টি সীমকার্ড এবং প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া নগদ দুই হাজার দুই শত টাকা জব্দ করা হয়। আসামীদের বিরুদ্ধে র্যাব বাদী হয়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের এর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
র্যাব ৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, প্রতারকগণ মোবাইল ফোনে বিভিন্ন এ্যাকাউন্ট বন্ধ, লটারী ও বোনাস এর প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ এর বিষয়টি স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে উক্ত চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারসহ এ ধরনের অন্যান্য প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যহত থাকবে।
প্রতারণা থেকে বাঁচতে বিকাশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এই ধরণের প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে সতর্ক হতে হবে। এজন্য নিজের একাউন্ট ব্যালেন্স এবং পিন কোড নাম্বার কখনই কাউকে বলা যাবে না। অন্য কেউ টাকা পাঠানোর কথা বললে ম্যাসেজ চেক না করে ব্যালান্স চেক করতে হবে। যত ম্যাসেজই আসুক না কেন আগে ব্যালান্স দেখতে হবে যে টাকা যোগ হয়েছে কিনা। চেক না করে কাউকে টাকা পাঠানো যাবে না। কারো প্ররোচনায় পরে লটারি জেতার নাম করে কাউকে টাকা পাঠাবেন না। যে কোন প্রয়োজনে ১৬২৪৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।





