বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) তার চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেন আদালত। এ সময় তাকে বিএসএমএমইউ’তে এনে ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

চিকিৎসা করার কথা বলা হয়। শনিবার (৬ অক্টোবর) তাকে বিএসএমএমইউয়ের কেবিন ব্লকে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের টিম গঠন করা হয়।

মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা রোববার (৭ অক্টোবর) দুপুরে খালেদা জিয়াকে দেখবেন। এরপর তার চিকিৎসার করণীয় নির্ধারণ করতে সভায় বসবেন। তিনি কতদিন হাসপাতালে থাকবেন সেটি নির্ভর করছে তার চিকিৎসার ওপর।

এদিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বয়সজনিত রোগে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতারা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। স্বাচিপের চিকিৎসকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার তেমন কোনও বড় ধরনের অসুস্থতা নেই। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। অন্যদিকে ড্যাব নেতারা তার অসুস্থতায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) তো অস্টিও আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন। গলার মেরুদণ্ড শক্ত হয়ে যাচ্ছে। বাম পাশের মেরুদণ্ডে সমস্যা আছে। তার বাম হাত ও ঘাড়ের দিক শক্ত হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, উনার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা আছে। হাঁটুর জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করলে পরবর্তীতে জয়েন্টগুলোর মধ্যে সমস্যা হয়, সেই সমস্যায় তিনি ভুগছেন। এছাড়া উনার অল্প পরিমাণ ডায়াবেটিস আছে। তিনি ব্লাড প্রেসারের ওষুধও অল্প খান। উনার বাম চোখেও সমস্যা আছে। মাঝে মাঝে লাল হয়।

তবে এখন পর্যন্ত তার হৃদযন্ত্র ভালো আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার কোনও এনজিওগ্রাম করতে হয়নি। গত আট-নয় মাসে তার হার্টের কোনও সমস্যা হয়েছে কিনা তা বলতে পারবো না। শনিবার তাকে দেখার সুযোগ হয়েছে কিন্তু সেভাবে কথা বলার সুযোগ হয়নি।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন খালেদা জিয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসা নিয়ে প্রথমে বিএনপি নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর ঢামেক কর্তৃপক্ষ অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে একটি চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির চিকিৎসকরা তাকে দেখে আসার পর জানিয়েছিলেন, তার ঘাড়ে ব্যথা, বাম হাতে-পায়ে ও কোমরে ব্যথা অনুভব করেন। এছাড়া তার হাত ঝিমঝিম করে বলে আমাদের জানিয়েছেন।