মুসলিম হয়ে হিন্দু ছেলের সঙ্গে প্রেম এবং প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে নির্মম শাস্তি দেওয়া হল এক কিশোরীকে। প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেত্রাঘাত করা হল ওই মেয়েটিকে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
লজ্জাজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের নওদা জেলায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে নির্যাতিতা ওই কিশোরীর বয়স ১৮ পার হয়ে গিয়েছে। শাস্তি দেওয়ার জন্য মেয়েটিকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
চলতি মাসের তিন তারিখে অর্থাৎ বুধবার এই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বিহারের নওদা জেলার রাজৌলি থানার জোগিয়া মারান গ্রাম। চোখের সামনে একজন মেয়ের উপরে নির্যাতন দেখলেও তাঁকে সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মেয়েটির দাদার নাম মহম্মদ ফারিদ আনসারি। পাশের পাড়ার বাসিন্দা রুপেশ কুমারের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে ওই কিশোরী।
রুপেশের বাড়ি থেকে এই সম্পর্কে মেনে নিলেও আপত্তি ছিল কিশোরীর পরিবারের। যার একমাত্র কারণ ছিল দুই পরিবারের ধর্ম ভিন্ন। গত মাসের অন্তিম দিনে রুপেশের সঙ্গে সংসার করার জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যায় ওই কিশোরী।
মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে জানার পর থেকেই শুরু হয় খোঁজ। অবস্থান জানতে পেরেই রুপেশের মেয়েটিকে নিয়ে আসা হয় গ্রামে। অভিযোগ জমা পরে স্থানীয় পঞ্চায়েতে।
মুসলিম হয়ে হিন্দু ধর্মের ছেলের সঙ্গে প্রেম! এরপরে আবার সেই ছেলের সঙ্গেই সংসার করার জন্য বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া। মেয়ে হয়ে এত বড় দুঃসাহস! গ্রামের এত বড় অসম্মান মেনে নিতে পারেনি পঞ্চায়েত।
গাছের সঙ্গে ওই কিশোরীকে বেঁধে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেয় পঞ্চায়েত। সেই নির্দেশ মেনেই কিশোরীর উপরে চলে নির্যাতন।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। নির্যাতিতা কিশোরীর বয়ান রেকর্ড করা হয়।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে এই ঘটনায় কোনও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। কেবলমাত্র সাবধান করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়েটির প্রেমিক রুপেশ কুমার এই ঘটনার পর থেকে পলাতক। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ নেই রুপেশের।





