অাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বেগম খালেদার জিয়ার জন্য চিকিৎসার উপযুক্ত জায়গা। প্রমাণ মিলেছে, যা আমরা আগেই বলেছিলাম তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করেনি। বিএনপি নিজেরাই রাজনীতি করছেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

শুক্রবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস স্টেশন এলাকায় আওয়ামী লীগের গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।

কাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আজ শুক্রবার। আযান ও নামাজের সময় সমাবেশ করলে মানুষ বিরক্ত হয়। তখন ভোট বাড়াতে গিয়ে ভোট কমে যাবে। নামাজ ও আজানের সময় খেয়াল করবেন। রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করবেন না। প্রচার পত্র বিলি করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়াবাড়িতে ছোট-ঘাট দোকান নষ্ট হলে প্রচারপত্র বিলি করলে যে লাভ হবে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে। শেখ হাসিনার আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা মানুষ ১০০ বছরেও দেখেনি।

আগত নেতাকর্মীরা স্লোগান তুলে ' শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার। তখন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'আমি বার বার চাইনা, আর এক বার চাই'। উন্নয়নের ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বিএনপি ক্ষমতা আসলে দুর্নীতি করে হাওয়া ভবন বানাবেন বলে মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি আরও বলেন, প্রচারপত্র বিলি করতে গিয়ে মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। জনগণকে খুশি রাখতে হবে। মানুষ যেন কস্ট না পায় সেদিকে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রার্থী হতে চাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু প্রার্থী হতে গিয়ে ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি লাগাবেন না। যাকে মনোয়ন দেওয়া হয় তিনি বাকি প্রত্যাশিদের শত্রু ভাববেন না। যারা মনোনয়ন চাইবে তাদের মনোনয়নের মার্কা হবে 'নৌকা'।

তিনি আরও বলোন, চা দোকানে বসে বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা না করেন আপনারা নিজের দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কথার আক্রামন করেন। নিজের দলের লোককে নিয়ে সমালোচনা করার বদঅভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের হুশিয়ারি করে কাদের বলেন, এবার বিদ্রোহ করলে খবর আছে। বিদ্রোহ করলে সঙ্গে সঙ্গে বহিস্কার। কাজেই এই অপর্কম করবেন না। কারো ব্যাপারে গীবত করবেন না। আওয়ামী লীগ যদি আওয়ামী লীগে শত্রু হয় বাহিরের শত্রু প্রয়োজন হবে না। কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের উপর ভর করে নিরাপদে ক্ষমতা যেতে চেয়েছিল বিএনপি। বিদেশীদের কাছে গিয়ে নালিশ সহ কান্নাকাটি করে কোন লাভ হয়নি।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফখরুল সাহেবের নালিশে কাজ হলো না। জাতিসংঘের মহাসচিবের নামে ভুয়া চিঠির কথা বলে কেন বাংলাদেশের জনগণের সাথে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করলেন তার জবাব চাই। যারা মিথ্যাচার ও প্রতারণা করেন তাদের কাছে বাংলাদেশ কি নিরাপদ? শেখ হাসিনার এতো উন্নয়নের মধ্যে অন্ধকারের পথ খোঁজচ্ছে বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতা আসলে ২০০১ সালে মতো রক্তপাত হবে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসি যদি গণপ্রতিনিধি অধ্যাদেশ প্রক্রিয়া করে সংসদে পাঠায় তা সংশোধন করবে সংসদ। প্রধানমন্ত্রীর কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, সীমিত অাকারে ইভিএম ব্যবহার আওয়ামী লীগ চায়।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি আসলামুল হকের সভাপতিত্বে গণসংযোগে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মো: ইব্রাহিম প্রমুখ।