দুর্গাপূজায় সামাজিক যোগাযোগ ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়ানো কোনো গুজবে কান না দিয়ে নিশ্চিন্তে উৎসব পালনে হিন্দ্র সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। মঙ্গলবার সকালে ডিএমপি সদরদপ্তরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

দুর্গাপূজায় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া হিন্দু নেতাদের বলেন, “আপনারা দুর্গাপূজার উৎসব নিশ্চিন্তে করুন। রাষ্ট্র আপনাদের নিরাপত্তা দেবে। সোশাল মিডিয়াসহ যে কোনো গুজবের বিরুদ্ধে সচেতন থাকুন।”

এবার রাজধানীতে ২৩০টি পূজামণ্ডপ থাকবে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, মণ্ডপের গুরুত্বানুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভাগ করা হয়েছে।

কেউ মিথ্যা ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্ন করার অপচেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সভায় আসন্ন দুর্গাপূজায় পুলিশের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরা হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে, প্রত্যেক পূজামণ্ডপে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য আলাদা গেইটের ব্যবস্থা, মণ্ডপের ভেতরে-বাইরে জেনারেটরসহ পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা, সিসিটিভি-আর্চওয়ে স্থাপন, পুরুষের পাশাপাশি নারী স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা, এসবি, পুলিশ এবং র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল সুইপিং করা এবং বিসর্জনের দিন পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা।

এছাড়াও মণ্ডপের আশপাশে কোনো হকার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ করে কোনো ধরনের মেলা বসতে দেওয়া হবে না এবার।

ছিনতাই ও ইভটিজিং প্রতিরোধে মোতায়েন থাকবে পুলিশের বিশেষ দল। সাদা পোশাকে ও পোশাকে মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য।

পূজামণ্ডপে ঢোকার পথে অবশ্যই মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও তল্লাশীর ধাপ পেরোতে হবে বলে জানান আছাদুজ্জামান মিয়া।

“মহানগর এলাকায় প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত কার কী দায়িত্ব তার নির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসারদের দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ঢাকেশ্বরী মন্দিরে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে এবং এখান থেকে রাজধানীর সকল পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা তদারক করা হবে।”

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রতিটি মণ্ডপে স্থানীয়দের নিয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিসি ও ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেওে তিনি জানান।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক সভা শেষে জননিরাপত্তা সচিব মো. মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ‘আপত্তিকর’ কিছু কারো চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় হেল্পডেস্ক ৯৯৯ -এ ফোন করতে জানাতে অনুরোধ করেন।

এছাড়া এ বছর সারাদেশে ৩০ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মোতায়েন থাকবেন এক লাখ ৭০ হাজার আনসার সদস্য।

সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি সেবা সংস্থার প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি এবং ঢাকা মহানগর দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা।

আগামী ৮ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দুর্গার বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে মূল পূজা। ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে।