যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের (বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এস ২-এজেএ) ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ফ্লাইট। বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করার সময় বিমানটি মুখ থুবড়ে পড়ে। এ সময় বিমানে ১৬৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক অফিসার জানান, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস বাংলার বিমানটি যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়। এ সময় বিমানটিতে ১৬৪ জন যাত্রী এবং ৭ জন ক্রু ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে রানওয়ে বন্ধ আছে। যাত্রীদের উদ্ধার কাজ করে টার্মিনালে নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে ডিএস ১৪১ ফ্লাইটটি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার পৌঁছার কথা ছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উড়োজাহাজের সামনের চাকা না খোলায় সেটি কিছুক্ষণ চট্টগ্রামের আকাশে চক্কর দেয়। পরে দুপুর দিয়ে ১টা ১০ মিনিটে জরুরি অবতরণ করে।

ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, উড়োজাহাজটির সামনের অংশে কোনো একটি ত্রুটি ধরা পড়ার পরেই তা দ্রুত অবতরণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে, যাত্রীদের অক্ষত অবস্থায় নামানো সম্ভব হয়েছে।

দুর্ঘটনা তকমা যেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সকে ছাড়ছেই না। এবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস বাংলার একটি বোয়িং বিমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে বন্ধ রয়েছে শাহ আমানত বিমানবন্দরের বিমান ওঠানামা।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া একটার দিকে ১১ শিশুসহ ১৬৪জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে।

বিমানবন্দর সূত্র থেকে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামতে না পেরে ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এ সময় বিমানটির সামনের চাকা দেবে যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান (ফ্লাইট নম্বর- বিএস ১৪৩) চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করেছে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের একাধিক জানান, বিমানটির সামনের নোজ হুইল কাজ না করায় বিমানটি ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের পাঁচটি গাড়ি ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম-পিআর) কামরুল ইসলাম বলেন, ফ্লাইটে ১১ শিশুসহ (ইনফ্যান্ট) ১৬৪ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু ছিল। এদের সবাই নিরাপদে আছেন। ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিলেন ক্যাপ্টেন জাকারিয়া। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবেলা করে ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করিয়েছেন। বর্তমানে ওই যাত্রীরা চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে রয়েছেন।

এরআগে ১৪ এপ্রিল বিকাল সোয়া চারটার দিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। বিমানটিতে আনুমানিক ১৬০ যাত্রী ছিল।

তারও আগে গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ জন নিহত হন, যার ২৭ জন বাংলাদেশি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন