যাত্রীবাহী বাস-মিনিবাস রাস্তায় নামলেই দৈনিক চাঁদা, বখরা, বেতন-ভাতা মিলিয়ে অন্তত ছয় হাজার টাকা পরিশোধ করা চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম।রাস্তায় গাড়ির ফিটনেস, রুপ পারমিট ও চালকের সঠিক ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
লাইসেন্স থাকলেও নিরাপদে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। এজন্য পুলিশকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিয়েই গাড়ি রাস্তায় নামাতে বাধ্য হয় গাড়ির মালিক ও চালকরা। নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিলে এসবের দরকারও হয় না। চাঁদা আদায়ের জন্য রয়েছে পুলিশের আলাদা একটি সিন্ডিকেটও।
পুলিশকে চাঁদা দিলে কোন গাড়ির রুট পারমিট, ফিটনেস বা চালকের লাইসেন্সের দরকারই হয় না। চাঁদা আদায় করলে পুলিশ গাড়ির মালিক বা চালককে দেয়া হয় একটি রশিদ বা টোকেন। যা ঢাকা ও তারা আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলতে পারে গাড়িগুলো। নির্দিষ্ট সময় শেষ হলে আবার আদায় করতে হয় চাঁদা।
আর এই চাঁদাকে ‘মানতি’ নামের সাংকেতিক নামে ডাকা হয় বলে তালাশের একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।গত শনিবার বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিভিশনে প্রচার করা হয় অনুসন্ধামূলক অনুষ্ঠান তালাশ। সাংবাদিক মঞ্জুরুর করিমের উপস্থাপনায় তালাশের ১৫৬ তম পর্বে অনুসন্ধানের মাধ্যমে এমনটিই জানা গেছে।
তালাশে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে চাঁদা আদায় নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হওয়ায় কৌশল বদলেছে, কিন্তু বন্ধ হয়নি। এখন স্থানীয় পরিবহন নেতাদের মাধ্যমে টোকেন পদ্ধতিতে চাঁদাবাজি হয়। টাকা দিলে টোকেন পাওয়া যায়। আর টাকা না দিলে টোকেন দেয়া হয় না। টোকেন পেলে নিবিঘ্নে রাস্তায় চলাচল করতে পারে। টোকেনগুলো নির্দিষ্ট সময় পর রং ও ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়। যাতে বুঝতে পারে সময়ে ‘মানতি’ আদায় করা হয়েছে কিনা। এই টোকেনগুলো দেখাতে পারলে গাড়িগুলো পুলিশি তল্লাশি বা মামলা থেকে বেচে যায়। এভাবেই `মানতি’ দিলে রাস্তায় অবাধে চলতে পারে ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো। যার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা, হয় প্রাণ হানি।
এমনকি বিমান বন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের গাড়ীতেও প্রতিমাসে ‘মানতি’ দিয়ে ট্রিপ ধরতে হয়। এর সত্যতাও খুজে পায় বলে দাবি তালাশের।অনুষ্ঠানে আরো দাবি করা হয়, আমরা যা খালি চোখে দেখি তা শেষ দেখা নয়। এর মধ্যে থাকে আরো নানা ঘটনা, যেগুলো আমরা দেখি না। সকল প্রকার যানবাহন থেকে এই `মানতি’ নেয়া হয়। সেজন্য নানা স্থানে নির্দিষ্টলোক ‘মানতি’ নেয়ার জন্য রেডি থাকে।
এছাড়া তালিকার বাইরের কোন সার্জেন্ট যদি কোন গাড়ি আটকায় তাহলে তালিকা ভুক্ত কোন সার্জেন্টের নাম বললে কাগজ পত্রে সমস্যা থাকলেও ছেড়ে দেয়।এরপরে `মানতি’র অন্তর্ভুক্ত করতে বনানির এক ট্রাফিক পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে। পরে ওই ট্রাফিক পুলিশ গুলশান-২ এর আরেকজন পুলিশের মাধ্যমে ২৫০০ টাকার মাধ্যমে একটি গাড়ি অন্তর্ভুক্তি করে নেয় বলে দাবি করা হয়।





