নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন, সেনা মোতায়েন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা এসেছে জাতীয় ঐক্যের নাগরিক সমাবেশ শেষে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

জাতীয় ঐক্য ঘোষণার লক্ষ্যে আজ শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে শুরু হয় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ। সমাবেশের প্রধান বক্তা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যে কোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য করে এই দুঃশাসনকে সরাতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে এই সরকারকে হটিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে বলে কারাগার থেকে খবর পাঠিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আর এরই প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পথে আমরা রীতিমত একধাপ এগিয়েছি। স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতে হলে জনগণের ঐক্যের বিকল্প নেই। আসুন আমরা ন্যূনতম ঐক্যের ভিত্তিতে ন্যূনতম কর্মসূচির পথে এগিয়ে যাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে তার দলের নেতাকর্মীদের হাজার হাজার প্রাণ গিয়েছে। পাঁচশ’র মতো নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। নেতাকর্মীদের নামে ইতিপূর্বে ৭৮ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। গড়ে ১৮ দিনে ৩৬৭৬টি মামলা দেয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচনে যেন জনগণ অংশগ্রহণ করতে না পারে সে জন্য মহড়া দেয়া হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে যদি এই সরকারকে আমরা সরিয়ে দিতে না পারি এবং জনগণের ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারি তাহলে দেশের স্বাধীনতাও থাকবে না। এ জন্য কারাগার থেকে খালেদা জিয়া খবর দিয়েছেন যে কোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে যেসব দাবি এসেছে প্রায় সবার দাবিদাওয়া একই। আমাদের প্রধান শর্ত হচ্ছে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে। এ কারণে ইসি পুনর্গঠন করতে হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে আয়োজিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।