‘আপা কাগজে একটা আলতাসনো লিখ্যা দেন’- আউটডোরের খালার আবদারে বিরক্ত আমি। ‘রোগী না দেখে আমি কিছু লিখবো না। আগে রোগী আনেন।’ শীতল গলায় জানিয়ে দিলাম। গুটিগুটি পায়ে অনুপ্রবেশ ঘটলো এক কিশোরীর। শ্যামলা গায়ের রং, মাথায় দুই বেনী। পরনে ঢিলাঢালা ফ্রক, বয়সের তুলনায় বেশ অপুষ্ট। দু’চোখে গভীর অবসাদ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

-কি সমস্যা তোমার?

…কিশোরী নীরব।

-‘আপা ওর প্যাটে বাইচ্চা। চাইর মাস। নষ্ট করতে আইছে।’

আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো !

হিস্ট্রি নিয়ে জানলাম …

দুঃখিত আমি এই লাইনটা বাংলায় লিখতে পারলাম না! হাতে আর জোর পাচ্ছিলাম না…

কাঁপা কাঁপা হাতে লিখে দিলাম

পরে আবার সেই কিশোরীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল ফার্মেসির সামনে। আমাকে দেখে বিব্রত।

মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে ইচ্ছে করেছিল-
তুমি কেন লজ্জা পাচ্ছো? লজ্জা পাবো তো আমরা।

মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছি তাই। আমি এই দেশের, এই সমাজের একজন অক্ষম, নিষ্ক্রিয় সদস্য লজ্জা তো আমাদের প্রাপ্য।

ঘটনা : ২

সেদিন ছিল মঙ্গলবার। এডমিশন রুমে মধ্যবয়সী এক লোকের প্রবেশ।

-কি সমস্যা?

-আপা আমার মাইয়াডা ধর্ষণ হইছে। অবস্থা খুব খারাপ, আপা। মামলা করুম না। শুধু একটু চিকিৎসা দ্যান।

রোগীকে আনতে বলা হলো ।
না না! সে কোনো উত্তেজক পোশাক পরা সুন্দরী নন। ৫ বছরের মেয়ে শিশু, মায়ের কোলে চড়ে এসেছে। শিশুর! দু’চোখে পানি। আর আমার বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ …!

পরিশিষ্ট ::: যদি আপনার পরিবারে ০ থেকে ৯০ বছরের কোনো নারী সদস্য থেকে থাকে, তবে লেখাটি আপনার জন্যই।

*** আপনার কন্যা শিশুটিকে প্রতিবেশী, গাড়ির ড্রাইভার, বাবার বন্ধু, মায়ের কলিগ, মামার ক্লাসমেট টাইপের কারো কাছে আপনার অনুপস্থিতিতে যেতে দেবেন না।

*** আপনি যখন রাস্তায় কোনো মেয়েকে দেখে চোখের ব্যায়ামটা সেরে নিচ্ছেন, আপনার পরিবারের কোনো নারী সদস্য হয়তো তখন হয়রানির শিকার হয়ে বাড়ি ফিরছে।

***আজ থেকে নতুন করে ভাবুন। আপনার আশেপাশের নারীদের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন? এবং নিজ পরিবারের নারী সদস্যদের প্রতি অন্য পুরুষের কেমন আচরণ আপনি আশা করছেন?

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া )