দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথের ফেরিতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রায়ই পুলিশ টহল দেয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সুযোগে সংঘবদ্ধ ১৪ থেকে ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
১৫ জনের জুয়াড়ি ফেরিতে জুয়ার আসর জমায়। তারা নিজেরা প্রথমে জুয়া খেলা শুরু করে। তা দেখে ফেরিতে থাকা গাড়ির যাত্রীরা প্রলুব্ধ হন। এতে প্রতিনিয়তই সর্বস্ব খুইয়ে খালি হাতে বাড়ী ফিরতে হচ্ছে যাত্রীদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়ার সোহাগ ও হাসান আলী দু-বন্ধু ঢাকার গাবতলী থেকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ওঠে রাজধানী পরিবহনে। তারা সাড়ে ১২ টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে পৌছে। ফেরী সল্পতার কারণে যানজটে ভোর ৫টার দিকে গাড়ীটি ফেরী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানে ওঠে।
ফেরীটি মাঝনদীতে আসার পরই গাড়ী থেকে নেমে দেখতে পায় জুয়ার আসর। চারিদিক দিয়ে ঘিরে আছে ১০-১২জনের জুয়ারী দল। জুয়া খেলা দেখে তারা দু-বন্ধুও প্রলুব্ধ হয়। খেলতে খেলতে কাছে থাকা ১০ হাজার টাকার সবই খুইয়ে ফেলে।
ফেরীতে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌছানের আগ মুহুর্তে তারা খেলা বন্ধ করে চলে যায়। এরকম অনেক যাত্রীই তাদের মতো সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে খালি হাতে বাড়ী ফিরেছে।
তবে সোহাগ ও হাসান জানান, আসলে আমরা একটি শিক্ষা পেলাম। যখন তাদের খেলা দেখে এগিয়ে যাই, তাদের লোক ধরছে আর জিতসে। তারাই আবার খেলতে নিষেধ করছে। এ ভাবেই যাত্রীদের প্রলুব্ধ করে জুয়ারী চক্র।
চলন্ত ফেরীতে জুয়ার আসর সম্পর্কে কয়েকজন ড্রাইভার জানান, প্রতিদিন রাতেই চলন্ত ফেরীতে জুয়ার আসর বসে। ফেরী যখন মাঝনদীতে আসে তখন জুয়ারু দল ইঞ্জিন চালিত ট্রলার যোগে এসে ফেরীতে উঠে জুয়া খেলা শুরু করে। আর এ জুয়ার আসরে কেউ পা রাখলে তাকে নিঃস্ব হয়ে ফিরতে হয়। এটা নিত্য দিনের ঘটনা। অনেক সময় টাকা-পয়সা কেড়ে নিয়ে যায়।
এদিকে, রাজধানী পরিবহনের যাত্রী কৃষক আরশেদ আলী জানান, তিনিও ঢাকা থেকে বাড়ী ফিরছিলেন। গাড়ীর সামনে জুয়া খেলা দেখে এগিয়ে যান। লোভের বসে ৫শত টাকা ধরলে সে হেরে যান। তবে তিনি জুয়ারী চক্রের সদস্য ছাড়া কাউকে জিততে দেখেননি। তিনি আরো বলেন, এ ভাবে কেউ যেন আর জুয়ারু চক্রের ফাঁদে পা না রাখে।
উল্লেখ্য যে, দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ২১টি জেলা থেকে ঢাকাগামী নাইটকোচের যাত্রীরা প্রতিনিয়ত এ রকম জুয়াড়ির খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। জুয়াড়িরা সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফেরিতে উঠে নিজেরাই ৩ তাসের জুয়া খেলা শুরু করে। ১০০ টাকা ধরলে ৩০০ টাকা পাওয়া যায় এ প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।





