আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলছে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। বড় দলগুলোর সাথে কোনকোন দল থাকছে আর কোনকোন দল থাকছে না তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিভিন্ন বিশ্লেষণ। আর তারই একটি প্রতিফলন দেখা গেছে গতকালের (২৯ আগস্ট বুধবার) একটি টকশোতে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

গতকাল বুধবার (২৯ আগস্ট) বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেন্ডেন্টের জনপ্রিয় টকশো ‘আজকের বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের এর যুগ্ন মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বলেছেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল, যুক্তফ্রন্ট এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নতুন গঠিত জাতীয় ঐক্যে জামায়াতকে সাথে নিয়ে বিএনপির থাকার কোন সুযোগ নেই।

তিনি এ কথাও বলেন যে, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ‘জোট’ এটা নতুন কোন জোট নয়। তারা ২০০৪ সাল থেকে রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯১-১৯৯৬ সালের সরকার ও ১৯৯৬-২০০১ সালের সরকারের সময় স্বেচ্ছাচারের রাজনীতি শুরু হয়। ২০০১ সাল থেকে স্বেচ্ছাচারের মাত্রা বাড়তে বাড়তে আজকে এটা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। স্বেচ্ছাচার থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য জাতীয় ঐক্যে সাতটি দফার কথা বলা হয়েছে।

জামায়াতকে সাথে নেয়ায় সে দিনই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষত তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে বিকল্পধারা মহাসচিব বলেন, বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক ক্ষত সেই দিন তৈরি হয়েছে, যে দিন জামায়াত ইসলামকে সাথে নিয়ে বিএনপি ঐক্যজোট করেছিল। যা ছিল নির্বাচনী প্রথম ঐক্য।

সে সময় নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের মাধ্যমে জামায়াত বিএনপিকে গ্রাস করেছে। আর বিএনপির আদর্শিক মৃত্যু তখন থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমরা বিএনপিকে বাদ দিয়ে ঐক্য করার কথা বলছি না। বৃহত্তর ঐক্যে আমরা বিএনপিকে চাই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত ইসলাম থেকে বিকল্পধারার পাঁচ ভাগ ভোট বেশি জানিয়ে মাহী বি চৌধুরী বলেন, জামায়াতের ভোট আছে ৫ শতাংশ। ২০-২৫ শতাংশ ফ্লোটিং ভোট আছে। তারা এক এক সময় এক এক দলকে সাপোর্ট দেয়। এই কারণে নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। জামায়াতে ইসলামের চেয়ে তাদের ভোট পাঁচ ভাগ বেশি। তারা জামায়াতকে চায় না। বিএনপি ৫ শতাংশ ভোটের জন্য ২০ শতাংশ ভোটকে হারাচ্ছে কী না এটা বিএনপির ভাবনার বিষয়।

ঐ টকশোতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্ম আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও রাস্তায় নেমেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন কিংবা নিরাপদ সড়ক চাই যেই কথাই বলেন। যেগুলো আমরা পারিনি। তারা সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশ বিরোধী জামায়াতকে চূড়ান্ত ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এটার বোধদয় এখনো বিএনপির হয়নি। তাদের বোধদয় হলে জাতীয় বৃহৎ ঐক্যে সুযোগ পাবে। না হলে জামায়াতকে সাথে নিয়ে কোন বৃহত্তর ঐক্য হবে না।

উল্লেখ্য, খালিদ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় ঐ টকশো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী। আর ঐ টকশোর আলোচনার বিষয় ছিল ‘জোটে ভোটে ঐক্য’।