নারী সাংবাদিক সুবর্ণা নদী হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত সাংবাদিকের মা বুধবার বিকাল ৩টায় পাবনা থানায় মামলাটি করেন।আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদীকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

মামলায় সুবর্ণার সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এদিকে মামলার পরই পুলিশ ইদ্রাল ওষুধ কোম্পানি এবং শিমলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আবুল হোসেনকে (৬০) গ্রেফতার দেখায়।

মৃত্যুর আগেই তিনি তার মা ও মেয়েকে হামলাকারীদের নাম বলে গেছেন। প্রাক্তন স্বামী রাজীব ও রাজীবের সহকারী মিলনসহ কয়েকজন তাকে কুপিয়েছেন বলে হাসপাতালে আহতাবস্থায় জানিয়েছিলেন নদী।

আজ (২৯ আগস্ট, বুধবার) সকালে সুবর্ণার মা মর্জিনা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেয়ে মৃত্যুর আগে হাসপাতালে হামলাকারীদের নাম আমাদের জানিয়ে গেছে। রাজীব ও তার সহকারী মিলনসহ কয়েকজন তাকে কুপিয়েছে।

আমার মেয়ে তাদের চিনেছিল। র‌্যাব ও পুলিশকে আমি সব তথ্য জানিয়েছি। আমি তাদের ফাঁসি চাই’। নিহত নদীর মেয়ে জান্নাতও (৯) পুলিশকে একই তথ্য জানিয়েছে।

স্বামীর পাশাপাশি নদী যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, তার তত্ত্বাবধায়ক ও নদীর প্রাক্তন শ্বশুর আবুল হোসেনকে সন্দেহ করা হচ্ছে।এরই মধ্যে শ্বশুর ও বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ইমরান হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

তবে রাজীব এখনও পলাতক। এদিকে, এ ঘটনায় বুধবার সকালে নদী হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনা শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আমরা সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। শিগগিরই আমরা মূল হোতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারবো’। তিনি আরও জানান, মামলায় শিল্পপতি আবুল হোসেন,

তার ছেলে রাজীব ও রাজীবের সহকারী মিলনসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি ইড্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস (ইউনানি) ও শিমলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নিহত নদীর প্রাক্তন স্বামী রাজীবের বাবা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাবনা শহরের রাধানগরে নিজবাসার সামনে সাংবাদিক নদীকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আয়ুব আলীর মেয়ে। তিনি স্থানীয় ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।