এই ঘটনাটি ঘটে পাবনার চাটমোহর উপজেলার পল্লীতে । সুত্র জানায় , ‘ধর্ষণের শিকার’ এক স্কুলছাত্রী (১৪) তার আপন বাবা ও সৎভাইয়ের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

গত শনিবার রাতে স্কুলছাত্রী মামলাটি করে বলে জানিয়েছেন চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদরুদ্দোজা। তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

মামলা দায়েরের পরপরই মেয়েটির বাবা ও সৎভাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে আজ সোমবার এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে দুই আসামিকে ধরতে পুলিশের বেশ কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে বলেও জানান ওসি।মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মেয়েটির বাবা একজন গুড় ব্যবসায়ী।

প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থাতেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রামে। দ্বিতীয় সংসারে তিন মেয়ে হয় ওই ব্যবসায়ীর। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি দ্বিতীয় সংসারের সবার ছোট। সে নবম শ্রেণিতে পড়ে।এর মধ্যে গুড় ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী মারা যান। এরপর তিনি বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দেন। সবার ছোট মেয়েকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়ির এলাকাতেই নিজের বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

ব্যবসায়ীর প্রথম স্ত্রী ও এক ছেলে একই উপজেলার পাশের একটি গ্রামে থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি প্রথম পক্ষের স্ত্রীর কাছেও যাতায়াত করতেন।গত বছরের ২১ ডিসেম্বর গুড় ব্যবসায়ী প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। রাতে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জলসা শুনতে যান। বাড়িতে ওই স্কুলছাত্রী ও প্রথম পক্ষের ছেলে ছিল। সেদিন রাতে সৎভাই ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করে স্কুলছাত্রী।

সে আরো অভিযোগ করে, পরের দিন ওই ব্যবসায়ী ছেলেকে বাড়িতে রেখে প্রথম পক্ষের স্ত্রী যে গ্রামে থাকেন, সেখানে চলে যান। এই সুযোগে সৎভাই স্কুলছাত্রীকে কয়েক দিন ধর্ষণ করে।মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি বাবাকে জানায়।ব্যবসায়ী টাকা-পয়সা দিয়ে মেয়েকে এক নারীর সঙ্গে করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। একটি ক্লিনিকে মেয়েটির গর্ভপাত করানো হয়।

ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর গত ২৮ জুন মেয়েটি বাবার হাতেও ধর্ষণের শিকার হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এবং এ কথা কাউকে জানালে মেরে ফেরার হুমকি দেওয়া হয়। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি কাউকে এ কথা জানাতেও পারেনি। তবে সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। তারপরই বাবা ও সৎভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে সে।

ওই স্কুলছাত্রীর মামা ও গ্রাম্যপ্রধান দুজনই বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ও লজ্জাজনক। তারা দুজনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি কাউকে ঘটনাটি বলতে পারেনি। বাবা ও সৎভাই জঘন্য লোক। এদের কঠিনতর শাস্তি হওয়া উচিত।’