বিএনপি কি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে? দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে এ প্রশ্ন ছিল। মিশ্র জবাব মিলেছে। কেউ বলেছেন যাবে, তবে দলের চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে নয়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আবার কেউ কেউ খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের দাবির কথা বলেছেন। দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা, নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য-বিবৃতিতে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয় যে, বিএনপি আদৌ নির্বাচনে যাবে কি না।

তবে বিএনপির নেতাদের মধ্যেই নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে ভিন্নমত আছে। দলের একটি অংশ মনে করে নির্বাচন থেকে দূরে থাকা ঠিক হবে না। দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে হলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত।

অপর অংশটির ধারণা নির্বাচনে গেলে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। জেনেশুনে পরাজয়ের নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে না। তবে, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস‌্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন,

আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে, তবে এর আগে বেশকিছু শর্ত পূরণ করতে হবে । এসব শর্তের মধ‌্যে‌ রয়েছে- খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার,

নির্বাচনের সময়ে সেনা মোতায়েন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব শর্তের কথা জানান।

‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘অনেকে আমার কাছে প্রশ্ন করেন, আপনারা নির্বাচনে যাবেন নাকি?

আমরা যদি নির্বাচনে নাই-ই যেতে চাই তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কেন চাচ্ছি? নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন কেন চাচ্ছি? নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েনই বা কেন চাচ্ছি? নির্বাচনে যাব বলেই তো এসব চাই।’

‘আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। তবে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনের নামে সিটি করপোরেশনের মতো কোনো প্রহসনে যেতে চাই না। কারণ, নির্বাচনে যদি মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ না পায় তাহলে জনগণ যে পরিবর্তন চান সেটা তারা করতে পারবেন না’, বলেন বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা আগামী নির্বাচনে যাব। তার আগে ইনশাআল্লাহ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। তাকে নিয়েই নির্বাচনে যাব। কিন্তু তার মুক্তির জন্য আমাদের সবাইকে রাজপথে কঠোর আন্দোলন করতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তিনি (তথ্যমন্ত্রী) বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে।

মন্ত্রীদের এ কেমন অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী ভাষা। গতকাল ভিসি কীভাবে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারেন? এ ধরনের লোকদেরকে নিয়োগ দান করছে লাইসেন্সবিহীন সরকার।’