নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন ছাত্রকে রিমান্ডে নেয়ার পর ঐ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষার্থী বলছেন যে এই ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আন্দোলনে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের হওয়া পৃথক দুই মামলায় গ্রেফতার ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথইস্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
৭ আগস্ট, মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুদ এই আদেশ দেন। এর আগে ওই ২২ ছাত্রের মধ্যে বাড্ডা থানার পুলিশ ১৪ জনকে এবং ভাটারা থানার পুলিশ ৮ জনকে আদালতে হাজির করে প্রত্যকের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
গ্রেফতারকৃতদের আইনজীবীদের দাবি, ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে কয়েজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করেছে। নয় দিন ধরে চলা আন্দোলনের সময় সংঘটিত নানা ঘটনায় ঢাকার ১৬টি থানায় ৩৪টি মামলা হয়েছে।
এসব মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষার্থী বলেছেন, তবে তারা তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। এসব শিক্ষার্থীদের অনেকে বলেছেন,
মামলাগুলোতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে অনেককে অভিযুক্ত করায় তাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত যাদের আটক করা হয়েছে, বেশিরভাগই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনে সরব উপস্থিতি ছিল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের, তবে তাদের কাউকে আটক করা হয়নি বলে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নেয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকার দমননীতির দিকে এগুচ্ছে কি-না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান।
তিনি এমন অভিযোগও করেছেন যে যারা হেলমেট পড়ে, লাঠিসোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, মামলাগুলোতে পুলিশের কাজে বাধা দেয়া এবং সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একইসাথে স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানি দেয়া এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে এসব মামলায়।
বেসরকারি নর্থ সাউথ এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ছাত্রলীগের একদল সদস্য লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে গত সোমবার দফায় দফায় তাদের উপর হামলা করেছিল,
অথচ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ফলে তাদের মধ্যে এখন গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে তারা জানাচ্ছেন।





