সামনে পবিত্র ঈদুল আজহায় পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ কাজে ব্যবহার করতে আনা লবণ বোঝাই কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার সমপরিমান ইয়াবা আটক করা হয়েছে। সেই সাথে আটক করা হয়েছে দুই চালক ও দুই হেলপারকে। মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব-১ এই অভিযান চালায়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে এগারোটায় রাজধানীর পূর্বাচল এলাকায় একটি লবণভর্তি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. মানিক মিয়া ও হেলপার মো. আরিফ এবং ট্রাকের চালক মো. মাসুম মিয়া ও হেলপার মো. আব্দুল খালেককে আটক করে র‌্যাব-১।

আজ বুধবার (৮ আগস্ট ) কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, কাভার্ড ভ্যান থেকে ১ লাখ ৯৬ হাজার পিস এবং ট্রাকের অতিরিক্ত চাকার ভেতর থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ সর্বমোট ২ লাখ ছয় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় সাত কোটি ২১ লাখ টাকা।

মুফতি মাহমুদ বলেন, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে লবণের চাহিদা বেড়ে গেছে। প্রতিদিন লবণ আসছে রাজধানীতে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে। আর এরকম একটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই র‌্যাব-১ এর একটি দল পুর্বাচল এলাকায় অবস্থান নিয়ে একটি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে ২ লাখ ৬ হাজার ইয়াবার চালান জব্দ করে।

তিনি আরও বলেন, ইয়াবাগুলো সমুদ্র পথে মায়ানমার থেকে মহেশখালী হয়ে চকরিয়ার একটি সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ে আসা হচ্ছিল। ট্রাক চালক মাসুম ইয়াবা গুলো চকরিয়ার সিন্ডিকেট হতে গ্রহণ করে। ইয়াবা সংরক্ষণ শেষে প্রথমে ট্রাক নিয়ে মাসুম ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, এর তিন চার ঘণ্টা পর মানিক কাভার্ড ভ্যান নিয়ে এগুতে থাকে। পরিকল্পনা ছিল সামনের ট্রাক ধরা পড়লেও পেছনের কাভার্ড ভ্যানে রক্ষিত বড় চালানটি যেন রক্ষা পায়।

এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, স্থলপথে ইয়াবার চালান অনেকটা কন্ট্রোল হলেও সমুদ্রপথে সম্ভব হয়নি। সেখানে হাজার হাজার ট্রলার আছে। ওখানকার ব্যবসায়ীদের কাছে সাগর অনুকূল বা প্রতিকূল বলে কিছু নেই। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ব্যাপারে তৎপর রয়েছে।

তিনি জানান যে, আটককৃত চারজনই গাড়ি চালাতে পারলেও তাদের কারো কাছেই প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স নেই। এ চক্রটির সদস্য ১৫ থেকে ২০ জন। এদিকে মাদকের গড ফাদারদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।