জাতে বাঙালি, ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, অথচ উপরের ছবির ভদ্রলোককে চেনেন না, এমন মানুষ বিরল। ফেসবুক ও ইউটিউবে বিপুল জনপ্রিয় ছোট ছোট মজাদার ভিডিও-র সুবাদে এই মানুষটি এখন সকলের পরিচিত। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এঁর নাম হিরো আলম। রোগাসোগা চেহারা, অনুজ্জ্বল গায়ের রং নিয়েও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হিরো।’ গতকাল শুক্রবার দুপুরে একটি রেডিও চ্যানেলের লাইভে এসে তিনি মন্তব্য করেন, ;দেশের দায়িত্ব পেলে তিনি সাত দিনেই দেশ ঠিক করে ছাড়বেন’

কিন্তু কে এই আলম? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের বগুড়ার এরুলিয়া গ্রামে আশরাফুল আলমের (হিরো আলমের প্রকৃত নাম) জন্ম ও বেড়ে ওঠা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান আলম।

তিনি যখন ছোট, তখনই অর্থাভাবের কারণে আলমের বাবা-মা গ্রামের অন্য এক পরিবারের হাতে ছেলেকে লালন-পালনের দায়িত্ব তুলে দিতে বাধ্য হন। আলমের পালকপিতা আব্দুর রজ্জাকও অবশ্য খুব ধনী ছিলেন না।

ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়ার পরে আর আলমের পড়ার খরচ জোগাতে পারেননি আব্দুর। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে সিনেমা, গানের সিডির ব্যবসা শুরু করেন আলম। নিজের গ্রামেই তার পর শুরু করেন ডিশ টিভির ব্যবসা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন তুমুল পরিচিত বগুড়ার তরুণ হিরো আলম। পরে ঐ অনুষ্ঠানে রেডিও জকি জানতে চান, মন্ত্রী হলে আপনি কী করবেন? উত্তরে হিরো আলম জানান, তিনি মন্ত্রী হতে চান না।

তবে দেশের দায়িত্ব পেলে তিনি সাত দিনেই দেশ ঠিক করে ছাড়বেন। এসময় হিরো আলম ভারতীয় অভিনেতার মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত ‘ফাটাকেষ্ট’ ছবির কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনি ‘ফাটাকেষ্ট দেখেননি?

ছবিতে যেভাবে দেখানো হয়েছে সেভাবেই দেশ ঠিক করে ফেলবো। এ সময় মানুষের খারাপ মন্তব্য, সমালোচনা কীভাবে নেন জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, এগুলো আমার খুব ভালো লাগে।

কারণ গালি দিতে হলে আমার নামটা আগে মুখে নিতে হয়। তার মানে ওই ব্যক্তির মাথায় ‘হিরো আলম’ শব্দটা কাজ করে। সে আমাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই এটা করে।

‘মার ছক্কা’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় হিরো আলমের অভিষেক হচ্ছে। ছবিতে প্রচুর অ্যাকশন দৃশ্য আছে বলে জানান হিরো আলম। এ সময় রেডিও জকি প্রশ্ন করেন,

এমন ছিপছিপে শরীর দিয়ে কীভাবে অ্যাকশন দৃশ্য অভিনয় করেছেন? এটা কীভাবে সম্ভব? জবাবে হিরো আলম বলেন, পারি আর না পারি সামনে আগাইয়া যাব। পরে যা হওয়ার হয়ে যাবে।

বিঃদ্রঃ হিরো আলম এই কথাটি বলছিলেন ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট। বর্তমানে নিরপদ সড়কের দাবীতে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আবারো নতুন করে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে তার সেই কথাটি। তাই মোড়ল নিউজের পাঠকের স্বার্থে নতুন করে সেই হিরো আলমের কথাটি আবারো তুলে ধরা হলো।
সুত্রঃ দৈনিক আমাদের সময়