সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী রেবেকার যত স্বপ্ন- গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা গ্রামে জন্ম লক্ষী বাবুর। লক্ষী বাবুর বয়স যখন ৮ মাস তখন ওই গ্রামের মাঝি বাড়ির সৌদি প্রবাসী আবুবকর ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মাঝির স্ত্রী বেরেকা বেগম স্বামীর সহযোগীতায় ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেয় ফ্রীজাম জাতের ষাড় গরুটি। বাড়িতে আনার পর সবাই মিলে তার নাম দেয় লক্ষ্মী বাবু।
প্রায় দুই বছর আগে কিনে আনা ছোট্ট লক্ষী বাবুটি আর ছোট্ট নেই। লক্ষী বাবু এখন বিশাল দেহের অধিকারী। তাকে দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছে হাজারো মানুষজন। কেউ কেউ আবার শহর থেকে গাড়ী নিয়ে ছুটে আসছেন লক্ষ্মী বাবুকে ক্রয় করতে। তবে মালিক রেবেকার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় এখনও তাদের বাড়িতেই আছে লক্ষ্মী বাবু। সঠিক মূল্য পেলে তবেই লক্ষ্মী বাবুর রশি উঠবে অন্যের হাতে।
স্থানীয়রা জানান, এত বড় বিশালাকৃতির ষাড় আশপাশের কোন উপজেলা বা জেলায় নেই। প্রায় ৩৫ মন ওজনের এই ষাড়টি এবারে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন স্থানে বসা গরুর হাটের প্রধান আকর্ষণ হতে পারে।
প্রবাসী আবু বকর মাঝি ও রেবেকার সংসার জীবনে ২ মেয়ে ১ ছেলে। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে বাড়ির পাশে। এখন বাড়িতে আছে ১ মেয়ে ১ ছেলে। ছেলেটা স্থানীয় ফুলদী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ছে আর মেয়েটা পড়ছে বাড়ির পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাড়ির দুই ছেলে মেয়েকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়ে লালন পালন করেন লক্ষী বাবুর ক্ষেত্রের এর ব্যতিক্রম হয়নি।। নিয়ম করে গোসল করানো, খাওয়ানো, অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানো, ঔষধ খায়ানো, একটু গরম পড়লে বাতাসের ব্যবস্থা এর সবই করছেন রেবেকা। তবে তার সাথে সহযোগীতা করছেন শ্বশুর কুদরত আলী মাঝি (৭০) ও ছেলে তওহিদ মাঝি (১৪)।
রেবেকা জানান, স্বামী প্রবাসে থাকেন। তার একার রোজগারে সংসার খুব একটা ভাল চলছিল না। তাই শখের বসে হলেও মূলত স্বামী রোজগারের সাথে খানিকটা সহযোগীতার মনোভাব নিয়েই তিনি লক্ষ্মী বাবুকে লালন-পালন শুরু করেন। প্রতিদিন খাবার তালিকায় ভূষি, সবজি, ফল ছাড়াও আছে সবুজ ঘাস। দুই বছর ধরে লক্ষ্মী বাবুকে লালন-পালন করছেন রেবেকা। কিন্তু আল্লাহর রহমতে একদিনও অসুস্থ হয়নি। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন নিয়মত বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। তারা মূলত আসতেন ষাড়টির সঠিক পরিচর্যা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য।
তিনি আরো জানান, প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছে লক্ষ্মী বাবুকে দেখার জন্য। তবে তিনি একেবারেই বিরক্ত হচ্ছেন না। বরং যারা আসছেন দেখতে তাদের সবাইকে দেখাতে সহযোগীতা করছেন। ঘরের বাহির হচ্ছে না লক্ষ্মী বাবু। ঘরেই নিয়ম করে সব পরিচর্যা করা হচ্ছে। আসছে ঈদ-উল-আযহায় বিক্রি করা হবে লক্ষ্মী বাবুকে। রেবেকার প্রত্যাশা ১৫ লক্ষ টাকা। তবে তার ভালোবাসার সানিধ্যে বড় হয়ে উঠা প্রিয় পশুটিকে প্রিয় মনে যে কোরবানি করবেন সে ক্ষেত্রে রেবেকা তার চাহিদা নিচে নামিয়ে আনতেও প্রস্তুত। তবে সেটা দু’পক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই হতে হবে।





