গত ২৯ শে জুলাই বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন দুইজন কলেজ শিক্ষার্থী। আর এর পর থেকেই রাজধানীতে শুরু হয় নিরাপদ সড়ক চেয়ে আন্দোলন। যা ছড়িয়ে পরে সারা দেশে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

তবে সেই আন্দোলন এখন অনেকটাই মোড় নিচ্ছে অন্যদিকে। এরই মধ্যে বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা আমির খসরুর একটি ফোন আলাপ প্রকাশ পেয়েছে গতকাল।

ফাঁস হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এটা অপরাধ কোথায়? সমস্ত দেশই তো তাদের পক্ষে।

আমরা আগেই শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলাম। শিক্ষণীয় আন্দোলন করছে তারা। দেশের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ, বুদ্ধিজীবী সবাই বলছে যৌক্তিক। তবে তার (আমির খসরু) কথা বিকৃত করে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এখন তো সবই করা যায়।’

রোববার (০৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তার (আমির খসরুর) কথোপকথন জের ধরে গতকাল রাতে দুই বার অভিযান চালানো হয়েছে তাকে গ্রেফতার করা জন্য। কিন্তু কেন?, তিনি তো সাবেক মন্ত্রী। এটিকে কেন্দ্র করে গতকাল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। এগুলো সবই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর অভিযানের শামিল। বিএনপিকে নিয়ে গত কয়েকদিনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে ভাষায় কথা বলছে, এটি শুধু মাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, গতকাল ধানমন্ডিতে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এতে বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। সারাদেশেই এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তারা। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ অনির্বাচিত স্বৈরাচারী সন্ত্রাসী দল। তাদের কাছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই।

বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, গতকাল রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাসায় নৈশভোজে গিয়েছিলেন। তার আগেই সেখানে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছিল। তিনি বের হলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর এই হামলা মার্কিন রাষ্ট্রের ওপর হামলার শামিল। এই হামলায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন করেছে। আমরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী সন্ত্রাসীর গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জাতিকে শিক্ষা দিয়ে দিয়েছে। এবার আমরা যারা বড় আছি, তাদের মাঠে নেমে আসতে হবে।

তিনি জানান অবৈধ সরকার জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জাতির চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বড়দের একটা শিক্ষা হয়েছে। এখন সরকার হটাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বড়দেরই মাঠে নেমে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতেও সরকার আন্দোলন ভিন্নখাতে নিতে বিএনপিকে জড়িয়েছে বক্তব্য দিয়েছে। এবারও একই পন্থা বেছে নিয়েছে। মূলত তারা দেশের জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল করির রিজভী প্রমুখ।