সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে একের পর তাজা প্রাণ।সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম রাজীবের ভয়াবহ মৃত্যুর কথা ভুলতে পারছে না কেউ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
তাদের সেই হাস্যোজ্জ্বল মুখ এখনও কাঁদাচ্ছে স্বজন-সহপাঠীদের। ওই ঘটনার পরপরই শোক-ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তবুও যেন নিরাপদ হয়ে উঠছে না সড়ক; থামছে না লাশের মিছিল। গতকাল শনিবার মৃত্যুর এই মিছিলে যোগ হয়েছে আরও এক মীম। পুরো নাম ফারহানা আক্তার মীম। গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকায় গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ হারায় সে।
রাজধানীতে গত ৩ এপ্রিলের ‘সড়ক দুর্ঘটনা’য়ও দেশবাসীর মনে দাগ কেটে আছে। যার নির্মম শিকার হয়েছিলেন তিতুমীর কলেজের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। তার নামও ছিল রাজীব; পুরো নাম রাজীব হোসেন। দুই বাসের চাপায় হাত হারিয়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে যান তিনি।
গাজীপুরে গতকাল কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত ফারহানা আক্তার মীম টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পরিবারের সঙ্গে গাজীপুর মহানগরের বগারটেক জয় বাংলা রোড এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বাস করত সে। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার খোর্দ্দরুহিয়া গ্রামে।
মীমের মৃত্যুর ঘটনায় এদিন বিক্ষুব্ধ লোকজন কাভার্ডভ্যানের চালক ও সহকারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলেও তাতে বাধা দেয় তারা।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মীমের বাবা ফারুকুল ইসলাম জানান, কলেজ শেষে বাসায় ফিরছিল তার মেয়ে। বড়বাড়ি এলাকায় বাস থেকে নেমে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় গাজীপুরগামী একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। পথচারীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী আহ্সান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আহাজারি করতে করতে ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার আর কিছু থাকল না; সব শেষ হয়ে গেল!’
মীমের মৃত্যুর খবর শুনে তার মা সাহিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার বলছিলেন- ‘তোমরা আমার মাইয়ারে আইন্যা দেও।’ তার আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। এ সময় উপস্থিত লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মীমের মৃত্যুর খবর তার কলেজে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা টঙ্গীর কলেজগেট এলাকা অবরোধ করেন। এতে যোগ দেন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও। তারা সড়কে বসে বিক্ষোভ এবং ঘাতক চালকের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মীমের অকালমৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় তিনি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্নিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।





