‘এক সপ্তাহ আগে শান্ত আমার স্বামীকে ফোন দেয়। ফোন দিয়া বলে, তোর কলিজা কত বড় হইছে, তোর কলিজা ছিঁড়ে দেখব।’
স্বামী ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ সাজ্জাদুল আলম আজাদ ওরফে আজাদ শেখকে এভাবেই ধর্মমন্ত্রীর ছেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর রহমান শান্ত ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন আজাদের বিধবা স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু।
গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
দিলরুবা আক্তার বলেন, ‘ধর্মমন্ত্রীর ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর রহমান শান্তর নির্দেশে শেখ ফরিদের ক্যাডাররা গুলি, জবাই করে নির্মমভাবে খুন করে আজাদকে। খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি, আজাদের পেট ও বুক চিরে কলিজা ও ফুসফুস বের করে দিয়ে যায় খুনীরা।’
সংবাদ সম্মেলনে নিহত আজাদ শেখের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে অর্ণব শেখ, পঞ্চাশোর্ধ্ব মা সুফিয়া খাতুন ছাড়াও পরিবারের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সন্তান হত্যার বিচার দাবি করে আজাদ শেখের মা সুফিয়া খাতুন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলের দিকে অভিযোগের তীর ছোড়েন। তিনি বলেন, ‘দুই ঠ্যাঙে (পায়ে) গুলি কইরা, গলায় ফেঁসাইয়া আমার পোলারে ওরা জবো করছে।
বুকের কইলজা ছিঁড়াইয়া কইলজা বাইর করছে। শান্ত কইয়া দিছে আমার পুতেরে মাইরা হালবার (ছেলে মেরে ফেলার)। শান্ত কইছে আজাদের কইলজাটা আইন্যা দেখাবি, কইলজা কত বড়। আজাদ কীবায় (কীভাবে) আমার এলাকায় আমার গ্রুপ ছাইড়া মেয়রের গ্রুপ করে।’
এ বিষয়ে মোহিত-উর রহমান শান্ত গণমাধ্যমকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। আজাদ প্রকাশ্যে খুন হয়েছেন। কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, পুলিশ তা জানে।
এ সময় শান্তর সঙ্গে আজাদের কথোপকথনের বিষয়ে দিলরুবার আনা অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাও মনগড়া অভিযোগ। মোবাইলের কললিস্ট যাচাই করা হলেই এর প্রমাণ মিলবে।’
গত ৩১ জুলাই দিনদুপুরে শহরের নাজির বাড়ি এলাকায় ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ শেখকে (৩৫) গুলি করে এবং গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকান্ডের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দিলরুবা আক্তার বলেন, ‘আমি পুলিশকে গিয়ে বলি, আমার স্বামীকে ওরা তুলে নিয়ে গেছে। এর পরও পুলিশ কোনো কথা শুনে নাই। ওরা আমার স্বামীকে গুলি ও জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’
এ বিষয়ে সদরের কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার সাকের আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিগগিরই মামলা হবে। এরই মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে উদ্দেশ করে দিলরুবা বলেন, ‘আপনি (ধর্মমন্ত্রী) ছেলেকে কী শিক্ষা দিয়েছেন? প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীকে বলব, যুবলীগ করার পরেও আমার স্বামীকে কেন হত্যা করা হলো? আমাকে কেন বিধবা এবং আমাদের ছেলেকে পিতৃহারা করা হলো? আমার স্বামী তো বিএনপি-শিবির করত না। যুবলীগের রাজনীতি করত। এর পরেও কেন তাকে হত্যা করা হলো?’
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ধর্মমন্ত্রীর ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তর হাত ধরেই যুবলীগের রাজনীতিতে উত্থান ঘটে আজাদ শেখের। এর পর বিভিন্ন কারণে বনিবনা না হওয়ায় আজাদ শেখ তার গ্রুপ ছেড়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও ময়মনসিংহের মেয়র ইকরামুল হক টিটুর নেতৃত্বাধীন গ্রুপে যোগ দেন। এ নিয়ে শান্তর সঙ্গে বিরোধ চলছিল আজাদের।





