বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও চালকদের ফাঁসির দাবিসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে সড়ক অবরোধের হুমকিও দিয়েছে তারা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সোমবার (৩০ জুলাই) কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম আপন এসব দাবি তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও বাটা সিগন্যালের আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। অন্যদিকে সকাল থেকে বিএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা শাহীন কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।
২. নৌ-পরিবহন মন্ত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. এমইএসে ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. প্রত্যেক সড়ক দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাতে স্পিডব্রেকার দিতে হবে।
৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে, ভালভাবে থামিয়ে তাদের নিতে হবে।
৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. চালকদের লাইসেন্স এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি কোনো রকম রাস্তায় চলাচল করা যাবে না।
৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না ইত্যাদি।
দাবিগুলো উত্থাপনের পরে কলেজের শিক্ষক, র্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচিতে অনড় রেখে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন।
এরপর র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আজ দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জড়িত তিনটি বাসের দু’জন ড্রাইভার ও দু’জন হেলপারকে আটক করা হয়েছে। আমি তোমাদের আশ্বস্ত করতে চাই দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের কারণে বিভিন্ন রুটের যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে শহরজুড়ে তৈরি হয় তীব্র যানজট, ভোগান্তি। সাধারণ মানুষ, যাত্রীরা বলছেন, টানা দুই-তিন ঘণ্টা ধরে বাসে বসে থাকলেও মিলছে না গন্তব্যের দেখা। এমনকি দেড় দু’ঘণ্টা ধরে বাসও নড়াচড়া করছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
এর আগে গতকাল রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। নিহতরা হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম। মীমের বাবার নাম জাহাঙ্গীর ও করিমের বাবা মৃত: নূর ইসলাম। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন।
তাৎক্ষণিকভাবে রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আল-আমিন আবিদ ব্রেকিংনিউজকে বলেছিলেন, ‘কলেজ ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বাসের জন্য এমইএস মোড়ে অপেক্ষা করছিলো। এসময় মিরপুর থেকে আসা জাবালে নূর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।’
এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা অন্তত ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। আগুন দেয় দুটি বাসে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে দেখা যায়।
এর পর ওইদিনই রাত ৮টায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে তিনটি বাসের দুজন চালক ও দুজন হেলপারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতদের একজন বাসের হেলপার এনায়েত। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।





