গুপ্তধন যা খুবই দুর্লভ একটা জিনিস বেশির ভাগ সময় শুধু বইয়ের পাতা বা গল্পতেই শোনা যায় এই শব্দটি তবে এবার সত্যি সত্যি গুপ্তধনের সন্ধান মিলেছে ঢাকাতেই। যদিও এখনও তার হদিস পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

হঠাৎই চাউর হয় গুপ্তধনের খবর। এক কান দুই কান করে এ খবর জেনে যায় দেশবাসী। অমূল্য এই সম্পদ উদ্ধারের জন্য মোতায়েন করা হয় পুলিশ। নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা। মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন উদ্ধারের চেষ্টাও চলে। কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। এখন চলছে এ নিয়ে প্রযুক্তিগত গবেষণা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে সন্দেহ-সংশয়।

অনেকে এটা নিয়ে হাস্যরসও করছেন। অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে— এটা বাড়ি দখলের কোনো অপচেষ্টা কিনা। দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর মিরপুরে গুপ্তধনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে একতলা বাড়ির মাটির নিচে লুকানো রয়েছে ‘গুপ্তধন’। সোনার অলঙ্কার ও দামি নানা জিনিসপত্র সেখানে রয়েছে। গুঞ্জনের পালে যখন হাওয়া লাগে তখনই পুলিশ মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়িটির সামনে পাহারা বসায়। জানা যায়, বাড়ির মূল মালিক বিমানের সাবেক কর্মকর্তা দিলশান খান।

তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান চলে যান। ওই ব্যক্তির দূর সম্পর্কের আত্মীয় সৈয়দ আলমের মাধ্যমে ওই বাড়িতে গুপ্তধন থাকার বিষয়টি জানতে পারেন কক্সবাজারের টেকনাফের বাসিন্দা তৈয়ব। কয়েকদিন আগে আলম বাংলাদেশে আসেন এবং তার সঙ্গে তৈয়বও কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসেন। পরে তৈয়বকে আড়ালে রেখে বাড়িটির বর্তমান মালিকের সঙ্গে আলম আঁতাত করে মাটির নিচে থাকা সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে তৈয়ব তার পূর্বপরিচিত রাবেয়া চৌধুরী নামে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরই গুপ্তধনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

ওই জিডির পর ১৪ জুলাই বাড়িটির বর্তমান মালিক দাবিদার মনিরুল ইসলাম মিরপুর থানায় আরেকটি জিডি করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গুপ্তধন আছে এমন কথায় তার বাড়ির সামনে কয়েকদিন ধরে অসংখ্য মানুষ ভিড় করে। এতে তিনি অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, গুপ্তধন খুঁজতে খনন অভিযানের জিডি থেকে শুরু করে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় আগের ওসি নজরুল ইসলামের সময়। থানা পুলিশ জিডি নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে। পরে বাকি সব আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, ওই বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কখনো কোনো আবেদন করেননি।

খনন অভিযানের সব আয়োজন করেছিল থানা পুলিশ। তারা শুধু আমাদের কাছে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছিল। তিনি জানান, ভূতত্ত্ব বিভাগ সেই স্থানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। তাদের মতামতসাপেক্ষে আগামী শনিবার কিংবা রবিবার ফের অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মিরপুর মডেল থানার তৎকালীন ওসি বর্তমানে পল্লবী থানায় নিয়োজিত নজরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাইর কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের ৫০ গজ পশ্চিমে ওই বাড়ির অবস্থান।

বাড়িটি দেখাশোনা করেন শফিকুল ইসলাম ও সুমন নামে দুজন তত্ত্বাবধায়ক। সুমন জানান, ২০১০ সালে সেলিম নামে একজনের কাছ থেকে তাদের মালিক মনিরুল ইসলাম বাড়িটি কিনে নেন। এর পর থেকে তারাই বাড়িটিতে অবস্থান করেন। কিন্তু কখনই গুপ্তধন থাকার বিষয়টি জানতেন না। কথা হয় স্থানীয় লন্ড্রি ব্যবসায়ী রাসেলের সঙ্গে। তিনিও অভিযানের আগে জানতেন না গুপ্তধনের বিষয়টি। তার মতে, বাড়ির মালিকানা কিংবা দখল নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকতে পারে।