চিকিৎসক ও ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাতে চট্টগ্রামে আড়াই বছর বয়সি শিশু, সাংবাদিককন্যা রাইফার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর ম্যাক্স হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে বহিষ্কার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

শনিবার হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান দুই চিকিৎসককে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই দিন শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

গত ২৮ জুন বিকালে দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা গলায় ব্যথা নিয়ে বন্দর নগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরেরদিন রাতে তার মৃত্যু ঘটে। তার ‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত্যুর পর থেকে বিক্ষোভ করে আসছেন সাংবাদিকরা।

ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি কমিটি করা হয় পাশাপাশি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও এ ঘটনার তদন্ত করে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রতিবেদনে এ দুই চিকিৎসকের পাশাপাশি শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান রায়কেও চিকিৎসায় ‘অবহেলার দায়ে’ অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাইফা যখন তীব্র খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয় তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয় এবং ওই সময়ে থাকা সংশ্লিষ্ট নার্সদের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো দক্ষতা বা জ্ঞান কোনোটাই তাদের ছিল না।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করে দেখেননি। ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতার বিপদকালীন সময়ে আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করেননি বলে শিশুর পিতা-মাতা যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যাহা এই তিন চিকিৎসকের বেলায় সত্য বলে প্রতীয়মান হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া রাইফাকে ম্যাক্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা থেকে শুরু করে শেষ চিকিৎসা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের ভোগান্তি চরমে ছিল বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, এই প্রতিবেদন দেয়ার আগেই ডা. দেবাশীষকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা যায়, সেদিন শিশুটির খিঁচুনি শুরু হওয়ার পর যখন দাঁত ভেঙে যায় তখন তার বাবা তাকে নিয়ে ছোটাছুটি করছিল। এ সময় তাকে আইসিইউতে নেয়া উচিত ছিল— তা না করে ডা. দেবাশীষ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।