মেয়েরা যেন নিজ বাড়িতে এখন নিরাপদ নয়। অথচ বাড়িই শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। ফের তা ভুল প্রমাণ হল। বাড়িতেই নাবালক দাদার বিকৃত লালসার শিকার হল ৮ বছর বয়সী এক শিশুকন্যা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সোমবার (২ জুলাই) ঘটনাটি ঘটলেও নির্যাতিতা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে বুধবার (৪ জুলাই) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।

ভারতের রাজধানী দিল্লির আদর্শনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নির্যাতিতা শিশুটি যৌনাঙ্গে মারাত্মক আঘাত নিয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। অভিযুক্ত নাবালককে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নির্যাতিতার বাবা-মা দিল্লির আদর্শনগর এলাকায় থাকেন। ওই দম্পতি পেশায় দিনমজুর। সকালে ছেলে মেয়েকে রেখে কাজে বেরিয়ে যান, সন্ধ্যায় ফিরে আসেন। সোমবারও এই নিয়মের কোনো হের ফের হয়নি। ঘটনার দিন বাবা-মা বেরিয়ে যেতেই ছোট বোনের উপরে নৃশংস অত্যাচার চালায় নাবালক দাদা। তাকে মারধরও করে। নির্যাতিতার বাবা-মা বাড়ি ফিরে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছে তাদের মেয়ে। তারা হুড়ো করে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান তারা।

চিকিৎসকরা পরীক্ষার পরই জানিয়ে দেন, ধর্ষিতা হয়েছে একরত্তি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর নির্যাতিতা নিজেই ডাক্তারদের জানায়, তার দাদাই নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছে তার ওপর। এই মুহূর্তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই নাবালিকা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাবালিকাকে দেখতে বুধবারই হাসপাতালে যান দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই মুহূর্তে তার বেশ কয়েকটি জটিল অস্ত্রোপচার জরুরি। তবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে অস্ত্রোপচারও সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, দিনমজুর বাবা-মায়ের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তাই আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করা হচ্ছে। নির্যাতিতা নাবালিকার ট্রমা কাটাতে সার্বিকভাবে চেষ্টা করবে কমিশন। গোটা ভারত নারী ও শিশুকন্যাদের উপরে আক্রমণের ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতি নিয়্ন্ত্রণে আনতে গেলে এখনই সরকারকে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, দিল্লি পুলিশের তথ্য বলছে, প্রতিদিন রাজধানীতে অন্তত দু’জন শিশুকন্যা ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়।