মহান একটি পেশার নাম শিক্ষক। সবার আদর্শ হিসেবে থাকেন তিনি। আর সেই শিক্ষক যদি করে নিকৃষ্ট কোন ঘৃন্য কাজ তাহলে সবার মনে জন্ম দেয় ভিন্ন ধারনা। এই দুই একজন শিক্ষক এর জন্য কলঙ্কিত হয় পুরো শিক্ষক জাতি। তেমনি নিকৃষ্ট এক ঘটনা ঘটিয়েছে এক প্রাইভেট শিক্ষক। জানা গেছে ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

দিনাজপুরে চতুর্থ শ্রেণিতে চুড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করে পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠা (১৩) বছর বয়সের কিশোরী কন্যা অনাগত শিশুর মা হয়েছে। তবে এ মা হওয়া ইচ্ছাকৃত নয়। তাকে মা হতে হয়েছে কলেজ পড়ুয়া প্রাইভেট শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে।

প্রাইমারি স্কুলে পড়ুয়া কিশোরীর বয়স যখন পিঠে ব্যাগে করে বই নিয়ে স্কুলে যাওয়ার। স্কুলের বইয়ের ব্যাগ বহন করতে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন সেই কিশোরীটিকে পেটে করে বহন করে বেড়াতে হয়েছে আরেকটি শিশুকে। গত ২১ জুন মেয়েটির কোলে আরেকটি শিশুর জন্ম হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে পাশের বাড়ির প্রভাব শালী ব্যক্তির ছেলে প্রাইভেট শিক্ষক রবিউল ইসলাম (২৩)। সে একই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে। চাতাল শ্রমিকের দুই কন্যা ও ছেলের মধ্যে ধর্ষণের শিকার কিশোরী কন্যাটি বড়। পরিবারের অভিযোগ, কলেজ পড়ুয়া প্রতিবেশী তরুণ রবিউল ইসলামের কাছে টিউশনি পড়তে গিয়ে তাঁর কাছেই ধর্ষণের শিকার হয় তাদের মেয়ে।

এই ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি নবাবগঞ্জ থানায় ওই যুকবের বিরুদ্ধে মামলা করেন ধর্ষিত শিশুটির পিতা। তদন্ত শেষে গত ১৯ মার্চ রবিউল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শাহিন আলম। মামলা হওয়ার পর থেকে রবিউল ইসলাম পলাতক রয়েছে।

মামলার বিবরণে ও ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বিবরণে জানা গেছে, শিশুটি গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেছিল মাত্র। সে প্রতিবেশী কলেজ পড়ুয়া তরুণ রবিউল ইসলামের কাছে টিউশনি পড়তে যেত।

একা টিউশনি পড়ানোর সুযোগ নিয়ে একদিন অংক ভাল করে বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে রবিউল ইসলাম। সে ভয়ে সে বিষয়টি কাউকে বলেনি। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর হঠাৎ করে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে সময় মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বলে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তার আলট্রাসনোগ্রাম করানো হলে সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হয় পরিবারটি।

গত ২ে১ জুন বৃহস্পতিবার কিশোরী মেয়েটি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। কিশোরী মা শিশুটিকে নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে রয়েছে। মা সন্তান দু‘জনেই সুস্থ রয়েছে।

এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার ব্যপারে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বলেন, আমি এমন ঘটনাটি শুনেছি ঘটনাটি সত্য, ধর্ষিত শিশুর পিতা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক পলাতক রয়েছে। মামলার চার্জশীট কোর্টে জমা দেয়া হয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।তবে এখন পর্যন্ত লম্পট রবিউলকে গ্রেফতার করা যায়নি পলাতক থাকায় । পুলিশ চেষ্টা করছে ।পুলিশের অভিযান ব্যাহত রয়েছে।