পবিত্র ঈদ উপলক্ষে লোক জন বিভিন্ন স্থানে এবং আত্বিয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন। আর ঈদের সুবাদে বিভিন্ন পরিবহন মালিকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

জোর করে ঈদ বোনাসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। এসব বন্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা বেশী দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন চিত্র জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকে বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকৃত যানবাহনের। যাত্রীদের অভিযোগ ঈদকে সামনে রেখে ঈদের দিন থেকেই বিভিন্ন পথে চলাচলকারী বেশীরভাগ যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়।

যা আরো চলবে দুই থেকে তিন দিন দিন পর্যন্ত। এসব যানবাহন থেকে জন প্রতি প্রকারভেদে দশ টাকা থেকে একশত টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে ঈদ আনন্দ স্বজনদের সাথে ভাগাভাগি করতে বিভিন্ন এলাকায় চলচলকৃত যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। একইভাবে কর্মস্থলে ফেরার সময়ও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের। আক্কেলপুর উপজেলায় চলাচলকৃত বিভিন্ন পরিবহন মালিক সূত্রে জানা গেছে, সারা বছর যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করা হয়। আর ঈদ এলেই বাড়তি যাত্রীদের চাপ হয়ে থাকে। আর একারনে ঈদ বোনাস হিসেবে বাড়তি টাকা আদায় করা হয়। যা চলে ঈদের দিন থেকে সাত দিন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে বাসে। দূরপাল্লার তো বটেই, পৌর শহরের ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা-ভ্যান, সিএনজি ও এমনকি ইজিবাইকের যাত্রীদের কাছ থেকে ঈদের বোনাসের নামে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

প্রায় প্রতিটি রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। আর ঢাকার রাজধানীতে যাওয়ার বিভিন্ন বাস কাউন্টারে জন প্রতি নেয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও
তারা বাধ্য হচ্ছেন দিতে। যাত্রীদের মধ্যে সবাই যে সামর্থ্যবান তা নয়, তাদের একটি বড় অংশও নিম্ন আয়ের, বিপাকে তারা। বরাবর সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে নানা ঘোষণা থাকে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা কখনও দৃশ্যমান হয় না, এবারও হয়নি। এই পকেট কাটা ঠেকাতে কার্যকর কোনো কৌশল এখনও বের করতে পারেনি প্রশাসন।

পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের দাবি, এই অতিরিক্ত ভাড়া তাদের ঈদ করার অবলম্বন। কিন্তু বোনাসের টাকা নিয়োগকর্তার বদলে কেন সাধারণের কাছ থেকে আদায় করতে হবে, তার কোনো জবাব নেই। ঈদের তিন দিন পর থেকে পাঁচ দিন পর আবার ভাড়া আগের অবস্থানে চলে আসবে বলেও জানান শ্রমিকরা। আর এই বাড়তি ভাড়া ঈদ বোনাস হলে ঈদের পরেও কেন আদায় করতে হবে, তারও কোনো জবাব নেই।

একটি বেসরকারি বাসের কাউন্টারের ম্যানেজার নাম প্রকাশের সর্তে বলেন, ‘যারা চাকরি করে, সবাই বেতন-বোনাস পায়। আমরা কাজ করি গাড়িতে। তাহলে আমাদের বোনাস তো যাত্রীরাই দিবে। ভাড়াও তো বেশি বাড়ানো হয় নাই। যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা ঈদ বোনাসের নামে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নিচ্ছি। ভাড়া বেড়েছে আক্কেলপুর পৌরশহরের কিশোরের মোড় থেকে নওগাঁর বদলগাছি রোডে ২০ টাকার ভাড়ার যায়গাতে ৩০ টাকা, একই স্থান থেকে ভান্ডার পুর পর্যন্ত বেড়েছে ৫ টাকা। আক্কেলপুর থেকে জয়পুরহাট ও জামালগঞ্জ পর্যন্ত বেড়েছে বাসে ৫ টাকা, রেল স্টেশন থেকে ভদ্রকালী ৫ টাকা ভারা যায়গাতে বেড়েছে ১০ টাকা একই স্থান থেকে শ্রীরামপুর ১০ টাকা ভাড়ার যায়গাতে বেড়েছে ২০ টাকা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট থেকে তিলকপুর পর্যন্ত ৩০ টাকা থেকে বেড়েছে ৪০ টাকা, একই স্থান থেকে গোপীনাথপুরে ১০ টাকা থেকে বেড়েছে ১৫ টাকা, আওয়ালগাড়ি পর্যন্ত ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা করে জন প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বেশী ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে রেলওয়ের সরকারি বেসরকারী ট্রেনের কোন ভাড়া বাড়েনি। যাত্রীদের দাবি, ছোট পরিবহনের মালিকেরা সারা বছর বিভিন্ন খামখেয়ালী করে, ঈদের সময় খামখেয়ালী আরো বেড়ে যায়। ঈদের সময় এভাবে ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারটা অযৌক্তিক বলে দাবি যাত্রীদের। আক্কেলপুর থেকে বদলগাছির যাত্রী শামীম হোসেন নামে এক ব্যাক্তি বলেন, আমি সিএনজিতে প্রায় সময় বদলগাছিতে চলাচল করে থাকি ২০ টাকা দিয়ে। ঈদের সুযোগে ঈদ বোনাসের নামে সিএনজি মালিক তার গাড়িতে উঠার আগেই জানিয়ে দিল ২০ টাকা ভাড়া এখন ৩০ টাকা এতে পোষালে চড়েন না হলে নেমে যান। আমি ব্যাদ্ধ হয়ে ৩০ টাকা দিয়েই যাচ্ছি। নর- উনী নামে এক যাত্রী বলেন, স্টেশন রোড থেকে ভদ্রকালী ‘৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা হয়ে গেল। এটা কোন যুক্তি? ঈদ মানে সবাই গলা কাটবে? এরা আবার সবাই একজোট। আপনি চাইলেও কিছু করতে পারবেন না, যেতে হলে এদের গাড়িতেই উঠতে হবে, আর উঠলেই ডাবল ভাড়া দেবেন।’ ইজিবাইক চালক রাসেল বলেন, ঈদে ‘রাস্তায় চান্দাও বাড়ছে। ২০ টাকার জাগায় ৫০ টাকা দেওয়া লাগে। যাত্রীর কাছ থেকে না নিলে আমরা এত টাকা কোই পামু? ওরা ঈদের নাম করে রোড খরচ বাড়াইছে। আমরাও ঈদের নামে ভাড়া বাড়াইছি।’ বাড়তি ভাড়া নেয়ার কারণে যাত্রীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হচ্ছে শ্রমিক ও পরিবহন মালিকদের। এ নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।