রেজিস্ট্রেশন বিহীন ‘বিশ্বনাথপুর তরুণ যুব সমিতি’ নামের একটি ক্লাব অন্যের জমিতে জোরপূর্বক স্থাপনকালে জমির মালিক বাঁধা দেওয়ায় ৫ নারীসহ গৃহবধূকে গাছে বেঁধে এলোপাথাড়ি মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্যাতিত নারীদের আহত অবস্থায় শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে সাথী বেগম, লাইলী বেগম, শ্যামলী খাতুন, বিউটি খাতুনসহ ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বৃদ্ধা জুলেখা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মহিলা ওয়ার্ডের ৭নং কেবিনে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার জমা দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে তদন্ত শেষে মামলা রুজূ হবে বলে জানান, ওসি তদন্ত মো. মাহতাব উদ্দিন।

তিনি বলেন, সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এসআই বাবুল। উভয়পক্ষকে কোন রকম ঝামেলা করতে নিষেধ করে আসলেও থামেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষের নির্যাতন। বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছেনা পরিবারের কাউকে। বাঁশের বেরিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে করে বাড়ির কেউ পানি নিতে কিংবা টয়লেটে যেতে না পারে।

এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি থাকা থাকা জুলেখা বেগমের সঠিক সেবা প্রদান করছে না বলে নার্সদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সদের বিরুদ্ধে জুলেখা বেগমকে কেবিন থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তবে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পুনরায় তাকে কেবিনে অবস্থান নিতে বলে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. পলাশ আলীর স্বাক্ষরিত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে জোরপূর্বক পুরুষ শূন্য বাড়িতে ক্লাবের ঘর তৈরির কার্যক্রম শুরু করে। এসময় জমির আসল মালিকের পরিবারে থাকা গৃহবধূসহ নারীরা বাঁধা দিলে, বখাটে টমাম, রনি, চাঁন মেম্বার, মুকুল, সেন্টু, শাহজাহান, সেলিম, জুয়েল। বাবু, শফিকুল, সুমন, আইজুল, জমিবুর, জামিল, দোলা, সাদ্দাম, আরিফ, রনি, আলা, শহিদ, জানু, আনারুল, রিপনসহ প্রায় ৩০/৩৫ জনের একটি দল দলবদ্ধ হয়ে নারীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং গৃহবধূ সাথী বেগমকে দড়ি দ্বারা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালায়।

এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্বনাথপুর মৌজার সাবেক দাগ ১৩৭ ও হালদাগ ২৩৮ এর ৫৯ শতক জমি জবরদখলের জন্য ক্লাবের পক্ষে শিবগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন (২৩২/৯৪) আলমাস উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ১৬/০৫/২০০৫ সালে আদালত খারিজ করে দেন।

আবারও মামলাটি দায়রা জজ কোর্টে ৫৬/০৫ আফিল করে ক্লাবের ঐ চক্রটি। সেখানেও হার মানে অসাদু এই চক্রটি। গত ০৬/০৪/২০১০ সালে আদালত পুনরায় রায় প্রদান করেন ভুক্তভোগী ঐ পরিবারের পক্ষে।

তবুও হার মানতে নারাজ অবৈধ এ ক্লাবের সাথে জড়িত থাকা বখাটেরা। তাই আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গু্ল দেখিয়ে এবার জবরদখল করে জমি হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ক্লাবের এ চক্রটি।