যৌতুকের জন্য রুমা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন চালানো অভিযোগে উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার মাদ্রাজ ইউনিয়ন থেকে নির্যাতিতা রুমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এই ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, রুমার শ্বশুর ছালাউদ্দিন বেপারী ও তাঁর পরিবারের সদস্য মোশারেফ হোসেন সিকদার।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রুমার করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা প্রত্যাহার করতে বুধবার দুপুরে চর-নাজিম উদ্দিন গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে অমানুষিক নির্যাতন চালায় স্বামী মো. সোহেল ও তাঁর বাবা ছালাউদ্দিন বেপারীসহ পরিবারের ৪/৫ লোকজন। এ খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে আহত গৃহবধূকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করে বলে জানান, চরফ্যাসন থানার ওসি ম. এনামুল হক।

রুমার বাবা মজিবল মাঝি সন্ধ্যায় চরফ্যাসন প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদেরকে জানান, সোহেলের সঙ্গে চার বছর আগে রুমার বিয়ে হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ব্যবসার টাকা চেয়ে মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল সোহেল ও তাঁর পরিবারের লোকজন। মেয়ের সুখের কথাচিন্তা করে ধার-দেনা করে লক্ষাধিক টাকা মেয়ের জামাইকে দিলেও সে আরো টাকার এনে দিতে রুমাকে চাপ দেয়।

স্বামী ও পরিবারের লোকজনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রুমা বেগম বাদী হয়ে ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে যৌতুক মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিন উভয় পক্ষের সাথে সমঝোতার দোহাই দিয়ে সন্ধ্যার পর আটক দুইজনকে ছেড়ে দিয়েছেন।