রমজানের ঈদকে সামনে রেখে যাঞ্জট নিরসনে বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।জনগণের নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ঘরেফেরা নিশ্চিত করতে অন্যান্য বছরের মত এবারও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সজাগ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এ বছর রমজানের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। সম্পৃক্ত করা হয়েছে সকল স্টেক-হোল্ডারদের। এবার সমন্বয় সভাগুলো করা হয়েছে মাঠ পর্যায়ে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর এবং ফেনীতে চারটি সমন্বয় সভা হয়েছে।

এ সকল সভায় জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণ ছিল।আসন্ন ঈদের আগের চারদিন এবং পরের চারদিন চব্বিশ ঘণ্টা সারাদেশের সিএনজি স্টেশনসমূহ খোলা থাকবে। ঈদের আগে তিনদিন মহাসড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পঁচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ঔষধ, কাঁচা চামড়া এবং জ্বালানী বহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত।উল্টোপথে গাড়ি চালনা এক ধরণের ব্যাধি। প্রভাবশালীরাই এ কাজ বেশি করে থাকেন। এতে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্খিত যানজট। যত প্রভাবশালীই হোক কিংবা ভিআইপি হোক এমনকি আমি হলেও উল্টোপথে গাড়ি চালালে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।

ঈদের সময় যানজট এবং অতিরিক্ত চাপ এড়াতে এলাকাভিত্তিক গার্মেন্টসমূহ ধাপে ধাপে ছুটি দেয়া এবং খোলার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।বাস টার্মিনাল এবং মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে এবং সড়কপথে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, পকেটমার, মলমপার্টি ও অজ্ঞানপার্টির দৌরাত্ম্য রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ সজাগ থাকবে। মহাসড়কে যানবাহনের গতি অব্যাহত রাখতে ঈদের পূর্বের সাতদিন এবং পরে সাতদিন সুনির্দিষ্ট পূর্ব তথ্য ব্যতিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সড়কের উপর মোটরযান থামানো যাবে না। কোনোভাবেই ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে দেয়া যাবে না।

ঢাকা মহানগরীতে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে মোবাইল কোর্ট চালানো হবে। সড়ক মহাসড়কের যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না।জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত রিকশা যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য বলা হয়েছে।

২২টি জাতীয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মোটরসাইকেলে দু’জনের বেশি আরোহী থাকবে না। প্রত্যেক আরোহীকে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।যানজট ও দুর্ভোগ এড়াতে সেতুসমূহের টোল আদায়কারী সকল বুথ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। দ্রুত টোল আদায় করতে যানবাহনের মালিক ও চালকদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টোলের অর্থ হাতে রাখার জন্য অনুরোধ করছি। ফেরিঘাটে গাড়ি পারাপারে অতিরিক্ত ফেরি মজুদ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু সেতু, মেঘনা সেতু ও গোমতী সেতুসহ দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে রেকার ও ক্রেন রাখার জন্য বলা হয়েছে।

অনাকাঙ্খিত ও অপ্রত্যাশিত বড় ধরণের দুর্ঘটনা পরবর্তী দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনায় হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।অনভিজ্ঞ, লাইসেন্সবিহীন চালকের মাধ্যমে গাড়ি না চালাতে এবং চালকদের একটানা ও অতিরিক্ত ট্রিপ না দেয়ার জন্য পরিবহন মালিকদের অনুরোধ জানাচ্ছি। সড়কপথের দু’পাশের সিএনজি স্টেশনের টয়লেটসমূহ ব্যবহার উপযোগী রাখার জন্য বলা হয়েছে।

যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে মহানগরী এবং জাতীয় আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় পাশে কোনো ধরনের অস্থায়ী এবং ভাসমান বাজার বসানো যাবে না।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ঘাটে (সেতু সংলগ্ন) বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। চলছে জরুরিভিত্তিতে ঘাট মেরামতের কাজ। আশা করা যায় এ ঘাট ঈদের একসপ্তাহ আগেই প্রস্তুত হয়ে যাবে।

মহাসড়কে ঈদের সময় প্রায়শ যানজট দেখা দেয়। ওভারস্পীড, ওভারটেকিং, ফিটনেসবিহীন গাড়িসহ সবার আগে যেতে চাওয়া, উল্টোপথে যাওয়া, ট্রাফিক আইন না মানা ইত্যাদি কারণেও যানজট তৈরি হয়। ঘটে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা। অনেকসময় যাত্রীগণও চালকদের দ্রুত গাড়ি চালানোর জন্য তাড়া দেয়। আবার ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার না করে শত শত মানুষের রাস্তা পারাপারের দৃশ্য বড়ই বেমানান লাগে।

পৃথিবীর অনেক দেশে আরো অপ্রশস্ত রাস্তায় যথাযথভাবে মেইনটেইন করেই পরিবহন ব্যবস্থাপনা চলছে। সড়ক মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলাচলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করি। প্রয়োজন ট্রাফিক আইন মেনে চলা।সারাদেশের সড়ক মহাসড়কের জরুরি মেরামতকাজ ৮ জুনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মহাসড়কসমূহ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অধিকতর ভাল। তবে মন্ত্রী হিসেবে বলবো, দেশের সর্বত্র যে চিত্র তাতে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই।