মৃত্যুর কাছে হার মানলেন রক্তনালিতে টিউমারের মতো বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার সেই মুক্তামনি । দেশের সব মানুষের ভালবাসার মায়া কাটিয়ে বুধবার সকালে মুক্তামনি না ফেরার দেশে চলে যায়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আজ দুপুর আড়াইটার দিকে মুক্তামনির জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। এসময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরহাদ জামিলসহ স্থানীয় গ্রামবাসী তার জানাজায় অংশ নেন। জানাজা নামাজ পড়ান মুক্তামনির চাচা মাওলানা মনিরুজ্জামান।

পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করা সাতক্ষীরার মুক্তামণিকে দাদার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছ।বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এসময় মুক্তামণির বাবা-মাসহ প্রতিবেশীদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠে পরিবেশ।

মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন জানান, বুধবার সকাল ৭টা ২৮ মিনিটের সময় তারা বুঝতে পারে মুক্তামণি না ফেরার দেশে চলে গেছে। মৃত্যুর কিছু আগে মুক্তামণি পানি খেতে চায়। পানি খাওয়ানোর কিছু পরেই সে মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ে।

বাবা ইব্রাহিম আরও বলেন, মুক্তামণির ডান হাতের অবস্থা খারাপ দেখে ১৫ দিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটের প্রধান ডা.সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। এ সময় তিনি মুক্তামণির দুটি ছবি পাঠানোর কথা বলেন। ছবি দেখে তার হাতের অবস্থা খারাপ বলে জানান ডা. শারমিন সুমি। এরপর গত বুধবার সামন্ত লাল সেন ফোন করে মুক্তামণির খোঁজ খবর নিয়ে রোজার পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।

মুক্তামণির মা আসমা খাতুন জানান, সকালে মুক্তামণি তাকে কাছে ডাকেন। তার ভালো লাগছে না বলে জানায়। সাতটা ২৫ মিনিটের দিকে সে পানি চায় তার কাছে। এরপর পানি পান করার কিছুক্ষণ পরেই তার সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

প্রসঙ্গত,কয়েক দফা অস্ত্রোপচার শেষে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক মাসের ছুটিতে বাড়ি নেওয়া হয় মুক্তামনিকে। এরপর আর ঢামেকে যেতে রাজি হয়নি মুক্তামনি। বাড়িতেই চলছিলো তার চিকিৎসা।