১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন, সোনার বাংলাদেশ গঠনে কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।মহাদেশের বৃহৎ এই সংগঠনের ২৯ তম সম্মেলন গত ১১,১২ মে অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
যদিও সম্মেলনের আজ ৮ দিন অতিবাহিত হলেও কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় নেত্রবৃন্দ। কমিটি না দেয়ার কারন জানতে চাইলে একা্ধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন,প্রধানমন্ত্রীই আমাদের একমাত্র অভিভাবক। তিনিই ভালো বুঝেন। আমরা সকলেই তার ঘোষনার দিকেই তাকিয়ে।
কেন্দ্রীয় ও ঢাকা ভার্সিটির কমিটিতে শীর্ষ পদ প্রত্যাশী অনেক নেতাদের নিয়ে চলছে আনলাইন,ও প্রিন্ট মিডিয়ায় নানান গুঞ্জন। এবং অপরদিকে একাধিক নেতাদের নিয়েও চলছে নানান চাঁদাবাজি, মাদক, ভর্তি বাণিজ্য, চোরাচালান ও বিএনপি জামাত সংশ্লিষ্টতা।
সবচেয়ে আলোচিত এবং মডার্ন ছাত্রলীগ গঠন করতে কতটুকু সফল হবে এই নিয়ে থাকছে নানান প্রশ্ন। এই পর্যন্ত অনেক নেতাদের নাম ফেসবুকে ,নিউজে আসলে এদের বিরুদ্ধে নানান প্রচার অপপ্রচার হচ্ছেই। কেউ কেউ এইসবকে তুয়াক্কাই করছে না। আবার এইসবই কাল হয়ে দাড়াচ্ছে তাদের পদ পেতে।
কয়েকজন শীর্ষ পদ প্রত্যাশি নেতাদের নিয়ে এনএসআই,ডিজিএফআই বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। এবং আলোচনায় ও উঠে আসছে তাদের বিরুদ্ধে নানান অপকর্মের কথা। এরই সুত্র ধরে কয়েকজন নেতাদের নামে উঠে আসে নানান অপকর্মের তথ্য। যা পূর্বে এলাকার মানুষ,এবং একান্ত লোক ব্যতিত কেউ জানত না।
অভিযোগ নিয়েই প্রার্থী অনেকে!!
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম বিএনপি পরিবারের একজন অন্যতম সদস্য। তার বাবা একজন চাঁদপুর কচুয়া থানার জগতপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। বিএনপির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যন পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তার আপন চাচাত ভাই হাফেজ হুমায়ুন কবির কুমিল্লা শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি।
পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম হাবিবুল্লা বিপ্লবেরও পরিবার নিয়ে সমস্যার কথা বলছেন কর্মীরা। তার বাবা টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম সম্পাদক এবং বর্তমানে গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক। বিপ্লব আবার বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু,তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানান অভিযোগ। তিনি ক্যাম্পাসে মাদক সম্রাট নামে পরিচিত। তিনি তার মাদক ব্যবসা পরিচালনায় ব্যবহার করেন তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ শিষ্যদের। তাদের মধ্য অন্যতম হলেন কেন্দ্রীয় কমি্টির সহ-সম্পাদক অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহ-সম্পাদক শাহারিয়ার মাহমুদ রাজু , অমর একুশে হলের সাধারন সম্পাদক এহসান উল্লাহ ( পিয়াল) ।
এহসান উল্লাহ পিয়াল শুধু সেতুর শিষ্য হিসেবেই কাজ করেন না, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভর্তি বানিজ্য, আনন্দ বাজারে চাঁদাবাজির মত অভিযোগ। এমনও তথ্য বেরিয়ে আসলো তার চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা সফল করতে পিয়ালের সহোদর বশিরকে ব্যবহার করায় তাকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। এবং এরই প্রেক্ষিতে তার ভাই বশিরকে প্রায় ২ বছর জেলে বন্ধি থাকতে হয়। এমনকি তার পরিবার বিএনপি পরিবার হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার চাচাত ভাই আহসান হাবিব বিপ্লব বিএনপির মনোনীত উপজেলার চেয়ারম্যান।
স্যার এ এফ রহমান হলের সভাপতি হাফিজুর রহমান নীলক্ষেত এলাকায় জারের পানির ব্যবসায়ী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। নীলক্ষেত এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আলোচিত কেন্দ্রীয় নেতা দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদার বিরুদ্ধে রয়েছে বিয়ের অভিযোগ সহ নানান অপকর্মের তথ্য উঠে এসেছে।
আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত।
ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা মতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং ক্লিন ইমেজের নেতা তৈরি করতে কতটুকু সফল হবেন জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন , “সংগঠনের চেইন অফ কমান্ড ভেঙে ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য একেবারে পেছন জুনিয়রদের কাউকে শীর্ষ পদে দেওয়া হয়। এর ফলে অভিজ্ঞ নেতৃত্বে শূন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে। ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হলে অবশ্যই অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক দলীয় অবস্থান দেখে শীর্ষ নেতৃত্ব বাছাই করা উচিৎ।” আমি জননেত্রী আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক সিদ্ধান্তের উপর আর কোন কথা থাকতে পারে না। এবং আশা করি আমাদের নেত্রী এই পর্যন্ত কোন ভুল সিদ্ধান্ত নেন নাই। এখন ও নেবে না।





