বাজারে আম আসার সময় না হলেও রমজান মাসকে সামনে রেখেই আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অপরিপক্ক আম কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারে আসছে নানান প্রকারের আম।আজ রাজধানীর বিভেন্ন ফলের আড়তে যৌথ অভিযানে নামে র্যাব ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
অভিযানে ছয় প্রতিষ্ঠানের ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে অংশ নেন র্যাব ১০-এর অতিরিক্ত এসপি মহিউদ্দিন ফারুক, বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদুল ইসলাম ও মো. খাইরুল ইসলাম।
অভিযান শেষে র্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন,র্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেছেন, আগামী অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আপনারা আম কিনবেন না। খাবেন না ‘এখন বাজারে বিক্রি হওয়া পাকা আমগুলো আসলে অপরিপক্ব। এগুলো পরিপক্ব হতে আরেও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। এখানে এক হাজার মণের বেশি আম জব্ধ করা হয়েছে, যা ক্যালসিয়াম কারবাইড ও ইথোফেন স্প্রে দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ইথোফেন একটি হরমোন স্প্রে। এটি জমিতে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু অভিযুক্তরা সরাসরি আমে ব্যবহার করেছে। এই আম খেলে ডায়রিয়া, পেটের ও লিভারের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আম যখন পরিপূর্ণভাবে পাকবে (পরিপক্ব হবে) তখন আপনারা খাবেন। আমি ভোক্তা সাধারণের কাছে অনুরোধ করবো, আগামী অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আপনারা আম কিনবেন না। খাবেন না। কারণ আপনারা আমের বাইরের অংশ দেখলে মনে করবেন এগুলো পাকা বা পরিপক্ব আম। আসলে এটি ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পরিপক্ব দেখানো হচ্ছে। বাইরে থেকে হলুদ ও পাকা মনে হলেও ভেতরে কাঁচা।’
আড়তের কয়েকটি আম পরীক্ষা করে ইথোফেন হরমোন স্প্রের অস্তিত্ব পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো এক হাজার মণের বেশি আম ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া ৪০ মণ নষ্ট ও পঁচা খেজুর জব্দ করে র্যাব।
তিনি বলেন, ‘শুধু হলুদ টকটকে দেখে আম কিনবেন না, পরিপক্ক হয়েছে কি না দেখে কিনবেন। আমটি সঠিক সময়ে পারা হয়েছে কি না খোঁজ-খবর নেবেন।’
ভেজালকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে র্যাবের এ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, যারা ফল বা খাবার নিয়ে ভেজাল করছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। সে যেই হোক না কেন তাকে শাস্তি পেতে হবে। ভেজালকারীদের ধরতে মাঠে তদারকি করে এমন সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে সুতারাং ভেজাল হতে সাবধান হোন।
সারওয়ার আলম বলেন, অভিযানে আপেল ও আঙুর পরীক্ষা করা হয়। এসব ফলে ফরমালিন বা ক্ষতিকারক ক্যামিকেলের উপাদান পাওয়া যায়নি। এটি আমাদের জন্য ভালো খবর। এ ছাড়া বেশিরভাগ খেঁজুরের মান ভালো।





