প্রশ্নঃ ওই ঘটনার পর আমি আতংকগ্রস্থ, শারীরিক সম্পর্ক জীবননাশক মনে হয়… দুবছর আগে আমার জীবনে প্রথমবার শারীরিক সম্পর্ক করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত অনেক রক্তপাত হয়। আমি সেদিন মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই হঠাৎ ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
করে আমার স্বামী আমার সঙ্গে সহবাসে /শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয় এবং কিছুক্ষণ পরই আমার মারাত্মকভাবে রক্তপাত হতে থাকে। ও তখন এ অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যায় এবং তৎক্ষণাৎ সহবাসে ইস্তেফা টানে।
এরপর আমার প্রায় দুঘন্টার মতো রক্তক্ষরণ হয়। কেউ সেটা বন্ধ করতে পারে না। আমাকে হাসপাতাল নেয়া হলে ডাক্তারদের প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে রক্তপাত বন্ধ করতে। আমাকে তখনই জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা হয়। একব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। ডাক্তার আমাকে তিনমাস সম্পুর্ন বিশ্রাম নিতে বলেন এবং কোনো প্রকার শারীরিক সম্পর্ক করতে নিষেধ করেন।
আমার স্বামীও আমাকে আর জোর করেনি। দুমাসের মধ্যেই আমার স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ায় আমাদের দ্বিতীয়বার আর কোনো সহবাসের চেষ্টা হয়নি। কিন্তু ওই ঘটনার কারণে আমি এখনো মানসিকভাবে আতংকগ্রস্থ, যার কারণে আমি শারীরিক সম্পর্ককে সহজভাবে ভাবতে পারি না। আমার স্বামী এ মাসেই বাংলাদেশে ফিরছে। আমি এখন কীভাবে ওর সঙ্গে মানসিকভাবে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য নিজেকে গড়ব? আমাকে সবাই, এমন কী আমার স্বামীও অনেকভাবে বুঝিয়েছে। কিন্তু আমার কাছে এখন শারীরিক সম্পর্ককে জীবননাশক মনে হয়। কী এমন সমস্যা হয়েছিল আমার যে শরীর থেকে দুলিটার রক্ত চলে গিয়েছিল? এমন তো কারো হয় না।
আমি যদি আবার শারীরিক সম্পর্ক করতে যাই তাহলে কি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে? আমার কি ভবিষ্যতে সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে?
আপু, আপনার চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে আপনার বয়স খুবই কম। আপনার শরীর এখনো শারীরিক সম্পর্কের জন্য তৈরি নয়। আপনি শারীরিক মানসিক প্রস্তুতি নেয়ার আগেই স্বামী যেহেতু সহবাস করতে গিয়েছিল, এটাকে এক প্রকার ধর্ষণই বলা যেতে পারে। সেই চেষ্টায় আপনার শরীরের কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটা সাময়িক ছিল কিনা- সেটা আমার পক্ষে বিস্তারিত না জেনে বলা সম্ভব নয়। আর আপনি যে ভয়টা পাচ্ছেন, সেটাও শতভাগ জায়েজ। এমন একটা ঘটনার পর ভয় আপয়ায়া খুবই স্বাভাবিক। এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার শরীর-মন সহবাসের জন্য তৈরি না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অবশ্যই এই সম্পর্কে যাওয়া আপনার উচিত হবে না। কেবল স্বামী চাইছেন বলেই সহবাস করতে হবে, এমন চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। এবং বাচ্চা নেয়ার চিন্তাও আপাতত অনেক দূরে রাখুন।
আপনি যা করবেন, একজন খুব ভালো স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন ও নিজের ভালো করে একটা চেকাপ করাবেন। অবশ্যই আপনার গুরুতর কিছুই হয়েছিল, কেননা ৩ মাস ডাক্তার বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। শ্বশুরবাড়ির লোক সত্য চেপে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক, তাই ডাক্তারকয়ে সব খুলে বলে তাঁর কাছ থেকে একদম বিস্তারিত জেনে নেবেন যে আপনার কী হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে শারীরিক সম্পর্ক করলে আপনার কোন ক্ষতি করবে কিনা। ডাক্তার যা বলবেন, সেটার ওপরে ভিত্তি করেই কাজ করবেন। ডাক্তার সব ওকে বলে দিলে দেখবেন আপনার ভয়টাও অনেক কমে যাবে।
দ্বিতীয়ত, আপনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন এবং তাঁর সহায়তা নেবেন এই ভয় কাটিয়ে উঠতে। এটা খুবই জরুরী। একটা খারাপ ঘটনা আমাদের মনের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করে দেয়, এটা কাটিয়ে উঠতে ডাক্তারের হেল্প নেয়ায় মোটেও লজ্জার কিছু নেই। আপনি কাউকে না জানিয়ে নিজেই নিজের জন্য এই কাজগুলো করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
সেই রাতে ওর বাবাই আমাকে…
আপু আমি এক জটিল সমস্যায় পড়েছি যেটা আসলে আমার বাবা মেনে নিয়েছেন কিন্তু ওরা মেনে নিতে চাইছেন না,আমার বাবা মা যে ভুল করেছে ঠিক সেই একই ভুল আমিও করেছি একটি ছেলেকে ভালবেসে কিন্তু ভালবাসা তো কোন অপরাধ নয়। ছেলেটির নাম শাফিন একটি বেসরকারী ব্যাংকে আছেন। শাফিন ধর্মে মুসলমান আমিও তো মুসলিম ধর্মের অনুসারী বাবার দিক থেকে কিন্তু সাফিনের পরিবার কিছুতেই আমাদের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছে না।
আমার আব্বু হলেন মুসলমান আর আম্মু ছিলেন হিন্দু,ভালোবেসে আব্বু আম্মু বিয়ে করেছিলেন কিন্তু দাদু কিংবা নানুরা কেও সেটা মেনে নেয়নি,চাচুরা আব্বু আম্মুকে বাড়ি থেকে বের করে দেই,আমার নানা বাড়িতেও আম্মুর যাওয়া নিষেধ ছিলো,আমার আব্বু একজন সরকারী চাকুরীজীবি, আমার বয়স যখন আট বছর তখন আমার ছোট ভাইয়ের জন্মের কিছুদিন পরে আম্মু মারা যান,বাবা আর বিয়ে করেনি, কিন্তু কখনোই আমাদের কে মায়ের অভাব বুঝতে দেইনি, আমাদের বড় করতে কত যে কষ্ট করেছেন সেটা বলে কাওকে বুঝাতে পারবো না। আমি একটি বেসরকারি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবেমাত্র পড়াশোনা শেষ করেছি আর আমার ছোট ভাই ক্লাস এইটে পড়েন। আপু আমি এক জটিল সমস্যায় পড়েছি যেটা আসলে আমার বাবা মেনে নিয়েছেন কিন্তু ওরা মেনে নিতে চাইছেন না,আমার বাবা মা যে ভুল করেছে ঠিক সেই একই ভুল আমিও করেছি একটি ছেলেকে ভালবেসে কিন্তু ভালবাসা তো কোন অপরাধ নয়। ছেলেটির নাম শাফিন একটি বেসরকারী ব্যাংকে আছেন।
শাফিন ধর্মে মুসলমান আমিও তো মুসলিম ধর্মের অনুসারী বাবার দিক থেকে কিন্তু সাফিনের পরিবার কিছুতেই আমাদের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছে না। আমার বাবা সবসময় স্বাধীন চেতনায় বিশ্বাসী তাই আমাকে বলেছে তুমি বড় হয়েছো তোমার ভালমন্দ তুমি নিজেই বুঝতে পারবে তাই এই সম্পর্কে কোন আপত্তি করছে না কিন্তু সাফিনের পরিবার কিছুতেই আমাকে মানবে না সরাসরি বলে দিয়েছে.আর সাফিনও আমাকে ছেড়ে কোনভাবেই থাকবে না.ইতোমধ্যে সাফিন একবার ওর বাবা মায়ের উপর অভিমান করে আত্বহত্যা পর্যন্ত করতে গিয়েছিলো কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার ভালোবাসার টানে আল্লাহ ওকে বাঁচিয়ে রেখেছেন. গত কয়েকদিন আগে রাতের সময় সাফিনের বাবা মা আমার সাথে দেখা করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে,আপু আমার তো কোন দোষ নেই,আমার বাবা মা দুই ধর্মের এটাই কি আমার অপরাধ?সেই রাতে ওর বাবাই আমাকে বলছে আমি নাকি দচলা,আমি অলক্ষি,আমি যদি সাফিনা কে বিয়ে করি তাহলে নাকি তাদের সংসারে অশান্তি নেমে আসবে. আমার মতো মেয়েকে তারা কোনদিন গ্রহণ করবে না, কিন্তু আপু আমি সাফিনা কে নিষেধ করলেও ও আমাকে ছেড়ে থাকতে পারবে না, ও একটু খামখেয়ালি স্বভাবের। সব সময় বলে আমি পৃথক হলে সে আত্বহত্যা করবে, এখন আপনিই বলুন আমি কার কথা রাখবো, ওর বাবার কথা নাকি ওর জীবন…… প্লিজ আপু আমার নাম টা সবার সামনে প্রকাশ করবেন না, অতিদ্রুত আপনি মেইল করে আমাকে একটা পরামর্শ দিন.
পরামর্শঃ আপনার পরামর্শ আশা করি অতিদ্রুত পেয়ে যাবেন, একটু অপেক্ষা করুন। আর আমাদের ভিন্ন ডট কমের সাথেই থাকুন, পাঠকদের বিভিন্ন মতামত অবশ্যই আপনার কাজে লাগতে পারে। বি:দ্র: আমরা শুধুমাত্র মানুষিক শক্তির জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকি। আইনগত সহযোগীতার জন্য অবশ্যই বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আদালত আছে। সমস্যা অতি গুরুতর হলে সেখানে গেলে আপনি অবশ্যই আইনি সহায়তা পাবেন। এই লেখাটি ভূক্তভোগী




