সমাজে আগের দিনের তুলনায় নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রথা অনেকটা কমে গেছে ।তবে এখনো কিছু লম্বপট রয়ে গেছে সমাজে ।প্রতিদিনেই দেশের কোথাও না কোথাও অহরহ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে শিকার হচ্ছে গৃহবধুরা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সব কিছু ছেড়ে স্বামীর সংসারে এসে লাঞ্জনার পাএ হলে ওই নারীর জীবনে কষ্ট দু:খ ছারা কিছু থাকেনা । এমনি এক নির্যাতনে ঘায়েল গাজীপুরে এক গৃহবধূ।

পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর যৌতুক-নির্যাতন-পরকীয়ার প্রতিবাদ জানাতে রিতা আক্তার নামে এক গৃহবধূ মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্কর্যের আশ্রয় নিয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই গৃহবধূ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ের “স্মৃতিসৌধ-৭১” অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সময় তার একমাত্র সন্তান আনন্দ (৪) সাথে ছিল।

গৃহবধূ রিতা আক্তার পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আজিজের স্ত্রী। আব্দুল আজিজ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুয়াটোবা গ্রামের আ: ছাত্তারের ছেলে। তিনি এখন খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ লাইনে দায়িত্বরত।

গৃহবধূ রিতা আক্তার জানান, গত প্রায় পাঁচ বছর আগে থেকে তার স্বামী তাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে তিন লাখ ও কমপক্ষে তিন লাখ টাকার আসববাপত্র যৌতুক হিসেবে এনে দেন। ততদিনে কনস্টেবল থেকে পুলিশ স্বামী সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর পুলিশ স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত হয়।

তখন গায়ে হাত তোলা ছাড়াও লাঠিসোটা ব্যবহার , শীতকালে রাতের পর রাত ভেজা কাপড় গায়ে জড়িয়ে দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, খাবার খেতে না দেওয়াসহ নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে। পরকীয়ায় বাধা দিলে খুন করে লাশ গুমেরও হুমকি দেয়। উপায়ন্তর না দেখে গৃহবধূ পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ করেন। সেখানে আজিজ আর অত্যাচার না করার প্রতিশ্রুতি ও ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান।

গত বছরের ১৫ মার্চ অভিযুক্ত স্বামী তার বাড়ি চাঁদপুরে নিয়ে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। তা দিতে না পারলে সংসারে গ্রহন করবে না সাফ জানিয়ে দিয়ে গৃহবধূকে তার পিত্রালয় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। গৃহবধূ নিজে এবং তার সন্তানকে ভরনপোষন করতে পারছেন না। গৃহবধূ আবারও পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ করেন। পরে যৌতুকের বিরুদ্ধে রিতা ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আজিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান , অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আজকাল স্ত্রী-লোকের সাথে সামান্য কিছু সমস্যা হলে তারা যৌতুকের অভিযোগ তোলে। এসব ব্যপারে পুলিশ বিভাগ তদন্ত করছে।অবস্য তদন্ত প্রতিবেদনেই প্রমাণ পাওয়া যাবে অভিযোগটি সত্য না মিথ্যা।

উল্লেখ্য , ২০০৯ সালে তার বিবহ বন্ধনে আবদ্দ হন। গৃহবধূর স্থায়ী ঠিাকানা ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা গ্রামে। গৃহবধূ বর্তমানে তার বাবা মায়ের সাথে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামে বসবাস করছেন। তাদের জীবনে এক অনিশ্চয়তার চাদরে ডাক। ছেলের ভবিষৎ কি হবে তা নিয়ে চিন্তিত গৃহবধু।