খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ডাকাতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র পদে নির্বাচন করা বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে এ অভিযোগ করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সকাল থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অবস্থান নিয়ে নৌকার স্লিপ ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। নির্বাচনী দায়িত্ব না থাকলেও পুলিশের একটি ব্যাচের সদস্যরা ভোটের আগের দিন খুলনার অভিযাত হোটেলে থেকে নির্বাচনের দিন এই ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করতে মাঠে নেমেছে। এসময় বিজিবির সদস্যরা গাড়িতে ঘুমিয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে জাল ভোট দিয়েছে। বিষয়টি জানানো সত্বেও ইসি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এতে সরকার ও ইসি হেরেছে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন জয়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মঞ্জু।
এর আগে, মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্থগিত তিন কেন্দ্রের ভোট ছাড়াই আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের কাছে প্রায় ৭০ হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি।
২৮৬ কেন্দ্রের (তিনটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত) ফলাফলে দেখা যায়, তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ৯০২৯ ভোট। অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীকে নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অন্তত একশ কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে অভিযোগ তুলে সেসব কেন্দ্রের ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
মঙ্গলবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণার মধ্যে সন্ধ্যার পর এই দাবি তোলেন তিনি।
মঞ্জু বলেন, “আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছেলে-পেলে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। এই রকম কেন্দ্রের সংখ্যা ১০০টিরও বেশি হবে।
“সেসব কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা বাতিল করতে হবে। এরপর সেখানে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।”
কে ডি ঘোষ রোডে খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে মঞ্জু যখন এই দাবি জানান, ততক্ষণে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির তালুকদার আবদুল খালেকের শিবিরে জয়োল্লাস শুরু হয়ে গেছে।
সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খুলনা নগরীর ৩১ ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ করা হয়। ২৮৯ কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট স্থগিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলেছে, বিচ্ছিন্ন দুই-একটি ঘটনা ছাড়া উৎসবমুখ পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়েছে। বিএনপি যেসব অভিযোগ করেছে, তা সুনির্দিষ্ট নয়।
বিএনপির অভিযোগ ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একে ‘প্রহসনের ভোট’ আখ্যায়িত করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তুলেছেন।





