বিএনপি নির্বাচনে হেরে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে অহেতুক দোষারোপ করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচন থেকে বিএনপি’র শিক্ষা নেওয়া উচিত। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
তিনি বলেন, ‘আজকের খুলনা নির্বাচনে আমাদের যে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সে তো আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানকই তার বক্তব্যে বলেছেন। ভোট গণনা এখনও চলছে। আমরা বেসরকারীভাবে ২০০ টির মতো কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করেছি। এখন এগুলোর ফলাফল নিশ্চিত না করে বক্তব্য রাখাটা সমিচীন নয়।’
তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভোটে এগিয়ে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা উইনিং পার্টি। এবং উই আর গোয়িং টু উইন। রেজাল্টের যে ট্রেন্ড, সেখানেই এটি পরিস্কার যে নৌকা প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন।’
বিএপি নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচার করে- এমনটা দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পলিটিক্স প্রোঅ্যাকটিভ। বিএনপি একটা কথা বললো হুট করে, তাদের তো কিছু লোক বসেই আছে। আমি মাঝেমধ্যেই বলি, এরা প্যাথোলজিকাল লায়ার। এখন আবার বলতে ইচ্ছা করে, কনসামিট লায়ার। বসে বসে মিথ্যাচার করা ছাড়া তাদের তো কোনো প্রোঅ্যাকটিভ কাজ নেই। একটা প্রোঅ্যাকটিভ মুভমেন্টও তারা বাংলাদেশে গড়ে তুলতে পারেনি। ৯ বছরে তাদের ৯ মিনিটের কোনো সফল আন্দোলনের রেকর্ড নেই। কাজে মিথ্যাচার ছাড়া তাদের এখন কিছুই করার নেই। প্রেস ব্রিফিংটাই তাদের সম্বল। আর মাঝে মাঝে কূটনীতিকদের দ্বারে ধরনা দিয়ে নালিশ করা সরকারের বিরুদ্ধে- এটাই বিএনপির কাজ।’
বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা থেকে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ। খুলনার শহরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের বিজয়ের রেকর্ড কিন্তু খুব বেশি নেই। খুলনার আশপাশে আমরাই বিজয়ী হই। কিন্তু সিটিতে আমরা বিজয়ী হতে পারি না। এবার দেখুন ভোটের ট্রেন্ড। এটা হয়েছে কেন? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উন্নয়ন, অর্জন, তার ঐতিহাসিক সাফল্যগুলো এবং তৃণমূল পর্যন্ত তার মমতার হাত ছুঁয়ে গেছে। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ইউনিয়ন পর্যন্ত চলে গেছে। শেখ হাসিনার উন্নয়ন বাংলাদেশের এমন কোনো জনপদ নেই, যেখানে পৌঁছেনি।’
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন বলেন, ‘বিএনপি তো ক্ষমতায় ছিলে, ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির এমন কোনো দৃষ্টান্ত উন্নয়নের আছে কি বাংলাদেশে, যেটা তারা বলতে পারে? আমরা মনে করি জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য, ভোট আদায়ের জন্য কোনো উন্নয়ন বিএনপি তাদের অতীতের শাসনামলে দেখাতে পারেনি। লিপ সার্ভিসকে কেন তারা ভোট দিবে?’
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই দলটার অভ্যাসই হচ্ছে, যত নির্বাচন হবে, রেজাল্ট পর্যন্ত বলতে থাকবে, অনিয়ম হয়েছে, কারচুপি হয়েছে কেন্দ্র দখল হয়েছে, ভোট জালিয়াতি, চুরি, ডাকাতি হয়েছে। এটা তাদের পুরান ভাঙা রেকর্ড। এ রেকর্ড তারা চট্টগ্রামে বাজিয়েছে, খুলনা, সিলেটে, বরিশালে- সব জায়গায় বাজিয়েছে। তারা নির্বাচনে জেতার পরও, শেষ পর্যন্ত তারা ভাঙা রেকর্ড বাজায়। আজ তারা হেরে যাচ্ছে, এখানে বাজাবে- এটাই তো স্বাভাবিক। হেরে গিয়ে তাদের এই প্রলাপ বকা ছাড়া, তাদের আর কিছুই কি বলার আছে?’





