২০১৬সালের জুন মাসে ধর্ষণে হত্যা হওয়া আলোচিত তনু হত্যার দুই বছর পর হঠাৎ তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। তারা বলছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছবে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

নতুনভাবে পারিপার্শ্বিক এমন কিছু আলামত পেয়েছেন তারা, যা আলোচিত এ মামলার তদন্তে গতি এনেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত-সংশ্নিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বুধবার বলেন, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দেড়শ’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা। তার মধ্যে চিকিৎসক, তনুর স্বজন ও সেনাসদস্য রয়েছেন। কিছু পারিপার্শ্বিক আলামত পাওয়া গেছে সম্প্রতি, যা তদন্ত এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে- পাওয়া গেছে এ ধরনের আলামতও। একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে সন্দেহভাজনদের। যাদের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করে ধর্ষণের ঘটনায় পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

জানা গেছে, তনুর অন্তর্বাসে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যায় ডিএনএ পরীক্ষায়। এতে ধারণা করা হয়, ধর্ষণের পর তনুকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব আলামত ব্যবহার করে এখনও সুনির্দিষ্টভাবে আসামি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ও মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা বলেন, তনু হত্যা মামলার তদন্ত সঠিকভাবে এগিয়ে চলছে। সন্দেহভাজনদের ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করে তা মিলিয়ে দেখার কাজ চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটুকু বলতে পারি- তদন্ত একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। সঠিক সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবকিছু বলবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ওলিপুরের পাওয়ার হাউস এলাকার ঝোপ থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলাটি প্রথমে তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। এরপর ডিবি হয়ে বর্তমানে সিআইডিতে। তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মৃত্যুর পরদিন ২১ মার্চ প্রথম ময়নাতদন্ত করা হয়। তার ১৪ দিন পর দেওয়া হয় তার রিপোর্ট। সেই প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে পারেননি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা।

তার বিরুদ্ধে আলামত গোপন করার অভিযোগ তোলে তনুর পরিবার। এরপর কবর থেকে মরদেহ তুলে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়। গত বছর ১২ জুন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের চিকিৎসক দলের প্রধান ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুর আগে তনুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের আলামত পাওয়া গেছে। তবে সেটি ধর্ষণ ছিল কি-না, তা স্পষ্ট করেননি। ওই প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ বলতে পারেনি চিকিৎসক দল।

প্রথমবারের মতোই গোঁজামিল দিয়ে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে তনুর পরিবার। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশকে অধিকতর তদন্ত করার কথা বলা হয়। অনেক অস্পষ্টতা রেখে দাখিল করা দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল নিহতের পরিবার। সাধারণত ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ, ধরন ও প্রকৃতি উদ্ঘাটন করে থাকেন চিকিৎসক। তনুর ক্ষেত্রে এর একটিও নির্ণয় করতে পারেনি মেডিকেল বোর্ড। প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসকরা কোনো মন্তব্য করেননি। আর ধর্ষণ প্রশ্নে অস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।