আজ দুপুরে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ দেন।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পেছনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজমত উল্লাহর হাত রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এবং মনোনয়ন বঞ্চিত আজমত উল্লাহর মধ্যে বিরোধের কারণে নির্বাচন স্থগিত হলো।

এর আগে ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমের অসহযোগিতার কারণে তিনি বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান বলে মনে করেন আজমত উল্লাহ। এবার সেই প্রতিশোধ নিলেন বলে মনে করছেন গাজীপুরবাসী।

২০১৩ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আজমত উল্লাহ। অন্যদিকে মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলেও হাইকোর্টের আদেশে তিনি প্রতীক বরাদ্দ পান এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। তবে এর আগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে, আজমত উল্লা খানকে সমর্থন দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন, সরে যাননি।

এর পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় ২০১৩ সালের ২১ জুন শুক্রবার রাতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন জাহাঙ্গীর। ২৩ জুন রোববার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের জননেত্রী। তিনি আমার মায়ের মতো। তার কথায় আমি এ ত্যাগ স্বীকার করলাম। আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছি। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আজমত উল্লাকে জয়ী করতে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু সে নির্বাচনে হেরে যান আজমত উল্লাহ। সেজন্য জাহাঙ্গীরকে দায়ী করেন তিনি।

২০১৩ সালে কাঁদতে কাঁদতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জাহাঙ্গীর আলম।
এদিকে এবারের নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে রিটকারী ১নং শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ আজমত উল্লাহর কাছের লোক বলে জানা গেছে। বিগত দিনে তিনি আজমত উল্লাহর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন।

আজমত উল্লাহ মনোনয়ন বঞ্চিত হবার পর ভেতরে-ভেতরে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করছিলেন বলে কেন্দ্র থেকে অভিযোগ উঠেছিল। যদিও, তিনিই ছিলেন জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী এজেন্ট। গত সপ্তাহে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আজমত উল্লাহকে কোনোরকম বিরোধিতা করা থেকে বিরত থাকতে বলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত আজমত উল্লাহর ভাবগতি দেখে জাহাঙ্গীর আলম আজমতের লোকজনকে বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার ছক কষা শুরু করেন। জাহাঙ্গীর আলম যখন আজমত উল্লাহর ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন, তখনই এই রিট এবং হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ।

তবে অনেকে অবশ্য নির্বাচন স্থগিতের পেছনে আওয়ামী লীগের অপরাজনীতি দেখছেন। কেউ কেউ মনে করেন, জাহাঙ্গীর আলম এবং আজমত উল্লাহর দ্বন্দ্বে নৌকার প্রার্থী হেরে যাওয়ার সম্ভাবনাই ছিলো বেশি। একারণে আদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটের নির্দেশ হয়তো ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ পর্যায় থেকেই এসেছে।

বিষয়টিতে নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতাও অনেকটা স্পষ্ট বলেও মনে করেন অনেকে। কেননা একই ঘটনা ঘটেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে। তার পরেও একইভাবে সীমানা নির্ধারণের গেজেট জারি করা হয়েছে গাজীপুরে। কিউ কেউ মনে করেন, এর মাধ্যমে মূলত ক্ষমতাসীনদেরকে আইনী ফাঁক তৈরী করে দিয়েছে ইসি। যেন প্রয়োজনের সময় নির্বাচন থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য আদালতকে ব্যবহার করা যায়।