ছোটোবেলাতেই মাকে হারিয়েছিল রুশনি (নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)। বাবা গাড়িচালক রাগু (নাম পরিবর্তিত)। ইদানিং খুব মারধর করতো তাকে। রাত হলেই অজানা একটা ওষুধ খাওয়াতো জোর করে। তাই ভয়ে কুঁকড়ে থাকতো সে। না খেলেই শুরু হত অত্যাচার। ওই ওষুধ খেলেই ঘুমে আচ্ছন্ন। ঘুম ভাঙলেই সারা শরীরে ব্যথা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

কিন্তু আর চুপ করে থাকতে পারেনি সে। কতোদিন আর মুখ বুজে সহ্য করবে? শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে যে এলাকায় রুশনিরা ভাড়া থাকতো সেখানকার এক প্রতিবেশিকে বলেছিল সব কথা।

বিষয়টি পরে জানাজানি হতেই বাড়িতে পৌঁছায় শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার পুলিশ। রাগুকে তুলে নিয়ে যায়। রুশনিকে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়। যৌন নির্যাতনের প্রমাণও মেলে। কেউ না থাকায় সেফ হোমে পাঠানো হয় তাকে। গত ১৪ বছর ধরে দেখে আসা পরিচিত পরিবেশটা এক মুহূর্তেই যেন বদলে গেছে তার জীবনে। এখন স্বস্তির ঠাঁই সেফ হোমের ছোট্ট ঘরটাই। রক্তের সম্পর্কের বাঁধন ছিঁড়ে এখন সেখানকার কর্মীরাই তার আপনজন।

নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে রুশনি বলছিল, ‘রোজ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতাম। স্কুলে অনেক বন্ধুরা ছিল। টিফিনের ঘণ্টা বাজলেই একছুটে বন্ধুরা মিলে মাঠে গিয়ে হইহই করতাম, গল্প হতো। আচ্ছা দিদি (পাশে থাকা হোমের এক কর্মী) এখন কি আর আমি স্কুলে

অভয় দিলেন সবাই। একজন বললেন, ‘আলবাত যাবে। কেন যাবে না? পড়তে হবে। বড় হতে হবে। সবাই পাশে আছি তোমার।’ চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউটের কো-অর্ডিনেটর সোনু ছেত্রী বললেন, ‘দিনের পর দিন নারকীয় অত্যাচারে ক্রমশ দেয়ালে পিঠ ঠেকেছিল ছোট্ট মেয়েটার। এখন আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে সে, স্কুলেও যেতে চায়।

আমরাও ওকে বলেছি নিশ্চয়ই স্কুলে যাবে। সে জানতে চেয়েছিল বাবার শাস্তি হবে তো?’ তিনি বলেন, ‘নিজের বাবার হাতে একমাত্র মেয়ের ধর্ষণের খবর পেয়ে চমকে উঠেছিলাম আমরা, কোনোভাবেই বিশ্বাস হয়নি।

পরে যখন সব জানতে পারি, হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, নিকটাত্মীয় বলতে কেউ নেই ছোট্ট মেয়েটার।

যে সিদ্ধান্তই কাল হয়ে দাঁড়াল অপুর জীবনে

শাকিব খানের অমতে বাচ্চা নেওয়ায় আজ তাদের বিচ্ছেদ হতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি একথা জানান।

অপু বিশ্বাস বলেন, ‘কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় আবরাম খান জয়ের। অপু বলেন, শাকিব চায়নি আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসুক। এজন্য ‘অ্যাবরশন’ করাতে প্রথমে ব্যাংকক পরে কলকাতার একটি ক্লিনিকে শাকিব তার চাচাতো ভাই মনিরকে দিয়ে আমাকে পাঠায়। চিকিৎসক সাফ জানিয়ে দেন ‘অ্যাবরশন’ করার স্টেজ আর নেই। তাই বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আর এই সিদ্ধান্তই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।’

তিনি আরও বলেন, ‘শাকিব জানিয়ে দিল সন্তানের জন্ম হলে সে আমাকে ডিভোর্স দেবে। যখন কলকাতার ক্লিনিকে জয়ের জন্ম হচ্ছিল তখন শাকিব কলকাতায় ‘শিকারি’ ছবির শুটিং করছিল। বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও একটিবারের জন্যও সে আমাকে বা বাচ্চাকে দেখতে আসেনি।’

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শাকিব-অপুর বিবাহবিচ্ছেদের তৃতীয় ও শেষ শুনানি আজ। যথারীতি ডিভোর্সের সিদ্ধান্তে অটল শাকিব আজও আসবেন না শুনানিতে। সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই দেখে অপুও বিচ্ছেদ মেনে নিয়েছেন। গত বছরের ২২ নভেম্বর অপুকে বিবাহ বিচ্ছেদের চিঠি পাঠান শাকিব। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তিন মাস পর কার্যকর হবে বিবাহ বিচ্ছেদ।

সেই হিসাবে ২২ ফেব্রুয়ারি শাকিবের বিবাহ বিচ্ছেদের চিঠি পাঠানোর তিন মাস পূর্ণ হয়। তবে ওই সময় শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়নি বলে জানান ঢাকা সিটি করপোরেশনের (অঞ্চল-৩) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন। তিনি বলেন,

আমরা সিটি করপোরেশন তাদের তিন মাসে তিনবার ডাকব, সেই তৃতীয়বার বিষয়টির ফয়সালা হবে। তিনি আরও জানান, আজ ১২ মার্চ তৃতীয় ও শেষবারের জন্য তাদের ডাকা হয়েছে। এদিন যদি তারা না উপস্থিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যাবে। শাকিব সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আজই কার্যকর হতে যাচ্ছে এই তারকা দম্পতির বিচ্ছেদ।

আরও দেখুনঃ- জেনে নিন অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খাওয়ার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো!!