সম্প্রতি তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন বলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন সে ইস্যুতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তার নাগরিকত্ব চলে যায় না, এটা কিন্তু সাধারণ শিশুও বোঝে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সরাসরি টক-শো অনুষ্ঠানে এসে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমান নাগরিকত্ব সমর্পণ করে দিয়েছেন, এটা বেশিকরে বলা হচ্ছে। কারো পাসপোর্টের মেয়াদ চলে গেলে তার নাগরিকত্ব যায় না। এটাই
হচ্ছে মূল কথা। কেউ যদি বিদেশে থেকে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয় তখনও তার নাগরিকত্ব যায় না।

‘তারেক রহমান কখনও বলেননি তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এটা যেহেতু সরকার উত্থাপন করেছে, সরকারকেই প্রমাণ করতে হবে সেখানে (লন্ডন) তারেক রহমান কি স্ট্যাটাসে আছে। তবে যেহেতু তারেক রহমান উকিল নোটিশ দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে এটা কোর্টেই আলোচনা হবে’ বলেন তিনি।

শওকত মাহমুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যারা রাজনৈতিক আশ্রয় চায় তাদের বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। রাজনৈতিক আশ্রয়ের মূল বিষয় হচ্ছে, সে কিন্তু নিজের দেশে ফেরত যেতে পারবে না। কারণ, সে নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছে। তাই দেশে ফেরত যেতে পারবে না। আমরা অনেক সময় দেখেছি, বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে তারা হয়তো কলকাতা গিয়েছে, এই দেশে আসতে পারে না। তাই একেক দেশে একেক রকম আইনের বাধ্যবাধকতা আছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমান ওখানে কি কারণে পাসপোর্ট দিয়েছেন সেটা উনি আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানে। সরকার যেহেতু দাবি করছে তিনি নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। তা স্পষ্ট করে সরকারেরই বলা উচিৎ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারেক রহমান আসলেই অসুস্থ। প্রতি সপ্তাহে তাকে থেরাপি দিতে হচ্ছে। তিনি ওষুধ খাচ্ছেন। বাংলাদেশ জেলে থাকাকালীন তার চিকিৎসাই হয়নি। তবে লন্ডনে তার চিকিৎসকরা তাকে এখনো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এ সরকার অনেক চেষ্টা করছে। তারেক রহমানকে দণ্ডিত আসামি বলে দেশে আনার জন্য ইন্টারপোলে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি লেখা হয়েছিল। ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল। কিন্তু ইন্টারপোল পরে নিজেরা তদন্ত করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে, তার বিচার ফেয়ার (নিরপেক্ষ) প্রসেসে ছিল না। ফেয়ার প্রসেস ছিল না বলেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট উঠিয়ে নেয়া হয়।