কারাগারে গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি- এমন বক্তব্যের আড়ালে দলটি নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। গত বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করে বিএনপি। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

প্রতি রাতেই একাদশ জাতীয় সংসদের খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনার জন্য দলের সিনিয়র নেতারা গুলশানে দলের সিনিয়র চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বসছেন। বিএনপির একটি সূত্র দাবি করেছে, নির্বাচনী ইশতেহার তাঁরা মোটামুটি চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

৩০০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনে যদি বেগম জিয়া এবং তারেক জিয়া অংশ নিতে না পারে, তাহলে কার নেতৃত্বে নির্বাচন করবে বিএনপি?

এই প্রশ্নের উত্তরে স্থায়ী কমিটির সিংহভাগ সদস্য মনে করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির এই মতের সঙ্গে যাঁরা একমত তারা মনে করছেন, বেগম জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন করলেও বিএনপি গণজোয়ার সৃষ্টি করতে পারবে। তাদের যুক্তি হলো, তখন নির্বাচনের মূল এবং একমাত্র ইস্যুই হবে বেগম জিয়ার মুক্তি। কিন্তু ফখরুল বিরোধীদের প্রশ্ন হলো, না হয় নির্বাচনে জয়ী হলাম তখন প্রধানমন্ত্রী কে হবে?

এখানেও উত্তর মির্জা ফখরুল।। ফখরুল পন্থীদের বক্তব্য হলো, মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রী হবেন, এই বক্তব্যে দেশে-বিদেশে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সংস্কৃতি সৃষ্টি হবে।

বেগম জিয়া ও তারেক জিয়া দল চালাবেন আর সরকার চালাবে পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতারা। সরকার এবং দলকে আলাদা করার এই ফর্মুলা বিএনপির জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়াবে, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও বাড়াবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সবুজ সংকেত পেলে এই ফর্মুলা নিয়ে, ‘বেগম জিয়ার মুক্তির নির্বাচন শ্লোগানে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। কিন্তু দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা এই বক্তব্যে একমত হলেও স্থানীয় নেতৃত্ব এবং তৃণমূলে এই মতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ রয়েছে। বিএনপির স্থানীয় ও তৃণমূল পর্যায় মনে করে, বেগম জিয়া ও তারেক জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচনে যাওয়া মানেই হলো ‘গোপন আঁতাত’।

এই নেতাদের বক্তব্য স্পষ্ট, বেগম জিয়া, তারেক জিয়া বা জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যের নেতৃত্ব ছাড়া বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে দেওয়া হবে না। তাই কেন্দ্র যেটাকে মনে করছে কৌশল, তৃণমূল সেটাকে মনে করছে ষড়যন্ত্র। এই নিয়ে বিএনপিতে মতবিরোধ বেড়েই চলেছে।

কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, এখন আন্দোলন করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করার বাস্তবতা নেই। আইনি প্রক্রিয়াতে বেগম জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে আসছে। বেগম জিয়ার মুক্তির পথ এখন একটাই, তা হলো ব্যালট বিপ্লব।

ব্যালটের মাধ্যমে ভোট বিপ্লব করে বেগম জিয়াকে জেল থেকে বের করা এবং তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিৎ। কিন্তু তৃণমূল বলছে, আওয়ামী লীগ যদি বেগম জিয়াকে আটকে রেখে নির্বাচন করতে পারে, তারা নির্বাচনের ফলকেও আটকে দিতে পারবে।

ওই নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দেওয়ার নির্বাচন। তারপরও যদি কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনে যাবার ব্যাপারে অনড় থাকে, সেক্ষেত্রে বিএনপির ভাঙনও ত্বরান্বিত হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছেন ঢাকার বকশিবাজারে অবস্থিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতের ‍বিচারক ড. আকতারুজ্জামান।