রকারি খাল উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মাঠে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। গতকাল বুধবার দুপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে দখল হয়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের এনায়েতনগর ইউনিয়ন ও ফতুল্লায় বিসিক শিল্প নগরীর আশপাশের এলাকায় খাল পরিদর্শনে যান তিনি। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
গতকাল বুধবার দুপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে দখল হয়ে যাওয়া খাল পরিদর্শনে যান তিনি।
এ সময় শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি ভোট পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। রাজনীতি করি মানুষের দোয়ার জন্য। কেউ খাল দখল করে ব্যবসা করবে আর জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়ে জনগণ আমার নেত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাকে গালাগাল করবে, সেটা আমি মেনে নেব না।
যদি সরকারি কাজে বিএনপি পরিচয় দিয়ে কেউ বাধা দিতে আসে, তাহলে তাকে এক কাপ চা পান করিয়ে বিদায় দিয়ে দেবেন। আর যদি আওয়ামী লীগ বা শ্রমিক লীগের পরিচয়ে কেউ বাধা দিতে আসে তাহলে তাকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করবেন।’
তিনি বলেন, সরকারি খালে যদি কারও অবৈধ স্থাপনা থাকে, সে যত বড় ব্যক্তিই হউক না কেন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা যাবে না।
উচ্ছেদ অভিযানকালে বিসিক শিল্প নগরীসংলগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য একটি জলাধার বালু ফেলে ভরাট কাজ চলাকালে কাজ বন্ধ করে জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশনের জন্য ভেকু দিয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
এ সময় শামীম ওসমান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বীণা, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ও ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ মো. মঞ্জুর কাদেরকে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এনায়েতনগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করার নির্দেশ দেন।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় বিকেএমইএ’র সভাপতি সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, এমপি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং প্রশাসন নিয়ে খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
কিন্তু এ সময় নূর হোসেন নামে এক ব্যক্তি শ্রমিক লীগ পরিচয় দিয়ে উচ্ছেদ কর্মীদের বাধা দেন। এক পর্যায়ে এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গে নূর হোসেন তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর দুই এমপি চলে গেলে এলাকাবাসী নূর হোসেনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
পরে খাল দখল করে গড়ে উঠা অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ্ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের (পিপিএম)। তিনি জানান, সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় নূর হোসেনকে এলাকাবাসী গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়ন এলাকায় ফতুল্লার মাসদাইর পুলিশ লাইন থেকে শুরু হওয়া কল্যানী খাল শাসনগাঁও হয়ে কাশিপুর বুড়িগঙ্গা নদীতে মিশেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ কাইল্যানী খালসহ শাখা খালগুলো দখল করে অবৈধ অর্ধশতাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
সম্প্রতি বিকেএমইএ’র প্রথম সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের বড় ভাই আবদুস সালাম তার মালিকানাধীন জমি ভরাটের সময় সরকারি খালের পানি নিষ্কাশনের অংশটুকু ভরাট করে ফেলায় সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লা-আবর্জনা জমে মাসদাইর, বিসিক শাসনগাঁও, ফাজিলপুরসহ এনায়েতনগর ইউনিয়নের বেশিরভাগ স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
শিল্প মালিকসহ প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে খাল দখল করায় পানি বুড়িগঙ্গায় পৌঁছতে পারে না। ফলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীসহ কয়েক লাখ শ্রমিককে।





