বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ নন। তবে শারীরিকভাবে দুর্বল। তিনি মেডিকেল বোর্ডের দেয়া ওষুধ খাচ্ছেন না। খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত চিকিৎসক চেয়ে আবেদন করেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল আদালতে এসব কথা বলেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে বকশীবাজারের বিশেষ জজ আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ এপ্রিল।খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া শুনানিতে বলেন, ‘প্রসিকিউটর কাজল সাহেব বলেছেন তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ। আমরা কাস্টডি দেখতে চাই।’

অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া হাজির হতে না পারলে প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি গ্রহণের আবেদন করেছে দুদকের প্রসিকিউটর।এরপর সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর অপর আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানির বিরোধীতা করে বলেন, ‘এই আদালত চলে সুপ্রিম কোর্টের বিধান মতে। কোর্ট কিভাবে চলবে তা আইন মন্ত্রনালয় সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবে। দুদকের প্রসিকিউটর ভিডিও কনফারেন্সের কথা কথা বলতে পারেন না। বলা যায় এটি বাড়াবাড়ি।’

এরপর প্রসিকিউটর কাজল বলেন, ‘আমি পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অবশ্যই বলতে পারি।’জবাবে রেজ্জাক খান বলেন, ‘আপনি (কাজল) দুদকের প্রসিকিউটর, রাষ্ট্রের নয়। তাই এটা বলার এখতিয়ার আপনার নেই।’জবাবে পিপি কাজল বলেন, ‘ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতেও লালুপ্রসাদ যাদব ও রাম-রহিমসহ একাধিক বাক্তির বিচারের রেফারেন্স আছে। তাই এই মামলায় করার ক্ষেত্রেও বাধা নেই।’

এরপর রেজ্জাক খান বলেন, ‘মাননীয় আদালত পত্র-পত্রিকার তার (খালেদা জিয়া) অসুস্থতার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এক মাসের সময় দিন।’উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ২২ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন এবং একইদিন যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি অব্যাহত রয়েছে এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকী আছে। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিুউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।