মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানেই আবারো মন্ত্রিসভায় শিগগিরই রদবদল আসছে। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি অথবা জুনের মধ্যেই বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং বয়সের কারণে অপারঙ্গম কিছু মন্ত্রী বাদ পড়ছেন মন্ত্রিসভা থেকে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

পদোন্নতি পেয়ে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন দুজন এবং যোগ হবে কিছু নতুন মুখ। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে তথ্যটি জানা গেছে।

ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে সরকারকে আরো শক্তিশালী করতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন করে আসন্ন রদবদলে নতুন করে চমক দিচ্ছেন। বর্তমান মন্ত্রিসভায় ৫৩ জন রয়েছেন। তাদের সঙ্গে নতুন করে আরো ৭ জন যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই ৩ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়। নবনিযুক্ত তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি চার মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রুলস অফ বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।

নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের মধ্যে এ কে এম শাহজাহান কামালকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।

এছাড়া নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। আর পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে দেওয়া হয়েছে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে এ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল; যার মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপ-মন্ত্রী। এর দেড় মাসের মাথায় এ এইচ মাহমুদ আলী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

আর হজ নিয়ে মন্তব্যের জন্য অক্টোবরে মন্ত্রিত্ব খোয়ান আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। প্র

বাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। এর পরের সপ্তাহে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলাম বিএসসিকে মন্ত্রী এবং তারানা হালিম ও নূরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ওই দিন মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ইয়াফেস ওসমান।

আর ১৬ জুলাই সৈয়দ আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান ২০১৬ সালের ১১ মে। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ জুন খাদ্য থেকে প্রতিমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদকে পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে।

গত বছরের শেষ দিকে এসে ১৬ ডিসেম্বর মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যু হয়। নতুন চারজনকে নিয়ে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছ।

তাদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপ-মন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরো পাঁচজন।