বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ভাঙনের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইতোমধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোট ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির নেতারা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীতে ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর) সম্মেলনে নেতারা এই ক্ষোভ ঝাড়েন। এক নেতা বলেন, এ মাসের মধ্যে আসন ভাগাভাগির সমঝোতা না হলে মনে রাখবেন, এলডিপি তিনশ আসনে ছয়শ প্রার্থী দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

তিনি বলেন, সরকারের নানা প্রলোভন উপেক্ষা করেও তারা বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকেছেন। কিন্তু তার মূল্যায়ন হয়নি। জোট এখন ভঙ্গুর অবস্থায় আছে, সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে জোট বাড়ানোর নামে যেনতেন দলকে টানার সমালোচনাও করেন তিনি। সম্মেলনে অতিথি হয়ে আসা ২০ দলের শরিকরাও জোটের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনায় মুখর ছিলেন।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, গত নির্বাচনের আগে এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, ন্যাপকে সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, নানা প্রলোভন ছিল, কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি গণতন্ত্র ও জোটের স্বার্থে। কিন্তু দুঃখ লাগে যাদের জন্য এই ত্যাগ করেছি তারা গত পাঁচ বছরে একবারও এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি।

এলডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ বলেন, যারা যোগ্য তাদের কাজ করতে বলেছি। বিএনপি এলডিপি সভাপতিসহ নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে যোগ্যদের মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন।

রেদওয়ান জানান, দশম সংদ নির্বাচনে তারা অংশ নিলে দশটি আসন, দুইজন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী দেয়ার প্রস্তাব ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। আমরা বিসর্জন দিয়েছিলাম। বিএনপিকে বলব, আমরা যারা নিবন্ধিত দল তাদের মূল্যায়ন করুন। কে কতজন মনোনয়ন চান তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করুন। তাহলে কোথায় জোটের মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর হবে। জোটের শরিকদের পথ পরিষ্কার করে দিতে হবে।

ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকা হয়। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, চা খেয়ে আমরা চলে আসি। যে অহিংস গান্ধিবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা করছি এটা সম্ভব হবে এটা অন্য কেউ বিশ্বাস করলেও আমি বিশ্বাস করি না। তাকে মুক্ত করতে হলে জোটকে কার্যকর করতে হবে।