হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা পাঁচ মামলায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার বিচারকাজ শেষের পথে। দুর্নীতির চার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য-জেরা চলছে। হত্যা মামলায় যুক্তি উপস্থাপনও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বিএনপির ওই সাত নেতা হলেন- দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু।
মামলা গুলো হলো-২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, খন্দকার মোশাররফের অর্থপাচার মামলা, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা, আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা, কে এম মোশাররফ হোসেনের নাইকো থেকে অবৈধ সুবিধা আদায় মামলা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুর বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মামলা হয়। মামলায় তারেক রহমান পলাতক আর বাকি দুজন কারাগারে আছেন।
আলোচিত এ মামলায় ৫১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এখন চলছে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন। যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য হবে।
খন্দকার মোশাররফের অর্থপাচার মামলা :
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে। এতে অভিযোগে আনা হয়, মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।
তিনি লন্ডনের একটি ব্যাংক হিসাবে নয় কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা জমা রাখেন। ওই মামলার বিচার শুরু হয় ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর। ঢাকার ১নং বিশেষ জজ আদালতে মামলাটির বিচারকার্য চলছে। আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ বছরের কারাদণ্ড।
মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা:
সাবেক পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দুদক মামলা করে। এতে বলা হয়, মির্জা আব্বাস সাত কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ২৯০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৭১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন।
এ অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ১৪ মে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলায় ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলাটির বিচারকাজ চলছে ঢাকার ৬নং বিশেষ জজ আদালতে। এ মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৩ বছরের কারাদণ্ড।
আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা:
সাবেক মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ১৯৯৮ সালের ১৯ আগস্ট ধানমন্ডি থানায় দুদক মামলাটি করে। ২০০০ সালের ৩০ মে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় দুদক। সাক্ষ্য হয়েছে সাতজনের। মামলাটির বিচারকাজ চলছে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে। এ মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৩ বছরের কারাদণ্ড।
কে এম মোশাররফ হোসেনের নাইকো থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়:
সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী (২০০১-০৫) এ কে এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কানাডার প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্স লিমিটেড থেকে ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং কানাডা-আমেরিকা ভ্রমণের জন্য পাঁচ হাজার ডলার নিয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালে মামলা করে দুদক। মামলায় ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলাটির বিচার কাজ চলছে ঢাকার ২নং বিশেষ জজ আদালতে। এ মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড।
দুদকের দায়ের করা চার মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও জেরার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। জেরা শেষে যুক্তি উপস্থাপন হবে। এরপর রায়ের জন্য দিন ধার্য হবে।





