স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ২৯ মার্চ বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পাবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার। কারণ দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) সচিবালয়ে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপির তিনজন সিনিয়র নেতা এসেছেন। তারা সমাবেশের অনুমিত নিয়ে কথা বলেছেন। আমি তাদের বলেছি ডিএমপি তাদের হয়তো সুনির্দিষ্ট কোন তথ্যের কারণে বা নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে যে দিন চাইছে সে দিন অনুমতি দিচ্ছে না। তবে তারা সময় এবং স্থান পরিবর্তন করে সভা-সমাবেশ করতে পারে। সে বিষয়ে হয়তো অনুমিত দিতে পারে ডিএমপি।
মন্ত্রী বলেন, এরআগে বিএনপির মহাসচিব লিখিত আবেদন করেছিলেন তিন নেতার সাক্ষাতের বিষয়ে। সে অনুযায়ী তাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারা আজ সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। সাক্ষাতে তাদের প্রশ্ন ছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা তাদেরকে বলেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধী ধরছি। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিংবা কোনো অবস্থায় তাদের পাওয়া গেছে তাদের ধরা হচ্ছে। কোনো অভিযোগ নেই এমন কাউকে সাধারণত গ্রেপ্তার করি না। তবে যদি এমন কোনো তথ্য জানা থাকে তাহলে আমাকে তারা যেন জানায় সেটা তাদেও বলেছি।
তারপর তারা বলছেন, একটা মিটিং এর কথা। আমি বলেছি। আপনারা একটি রাজনৈতিক দল। আপনারা সভা-সমাবেশ করবেন এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। ঢাকার যেকোন জায়গায় মিটিং করেন তার পারমিশনটা আমাদের ঢাকার পুলিশ কমিশনার দিয়ে থাকেন। তারা বলছেন তাদের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। আমি বললাম কি কারণে দেয়া হচ্ছে না। নিশ্চিয়ই কোনো কারণ আছে যেকারণে দেয়া হচ্ছে না। তবে যেদিন চেয়েছেন, সেদিন না দিলে তার পারের দিন বা তার পারের দিন আপনারা করতে পারেন। যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা না থাকে সেরকম দিনে আপনাদের দিতে পারে। এমন তো নয় যে আপনাদের দেবে না। আপনারাতো সভা-সমাবেশ করছেন। খুলনা তে তারা সমাবেশ করেছে। তবে আমাদের দায়িত্ব থাকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সেটুকু নিশ্চিত করা আমাদেও নৈতিক দায়িত্ব। আমরা প্রটেকশনের বাইরে কিছু করি না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছর তো তারা করেছে। এবছর তারা পাননি এর কারণ হতে পারে কোনো গোয়েন্দা তথ্য থাকতে পারে যে সেখানে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিতে পারে সেকারণেই হয়তো দেয়া হয়নি। কিন্তু তারা তো করছে। হয়তো স্থান এবং সময় পরিবর্তন হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, তারা যাতে সভাটি সুন্দরভাবে সেইফলি করতে পারে সেজন্য তো আমাদের কমিশনারের কিছু দায়িত্ব আছে। দায়িত্ববোধের জন্যই তিনি সময় এবং স্থান পরিবর্তনের কথা বলেন। আমি আগেই বলেছি পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। কোনো আশঙ্কা থাকলেই কেবল পুলিশ কমিশনার স্থান বা তারিখ পরিবর্তনের কথা বলেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ কমিশনার যদি মনে করেন ২৯ তারিখ কোনো সমস্যা নেই তাহলে তিনি অনুমতি দেবেন। কারণ এটি তার দায়িত্বে। তবে বিএনপি প্রতিনিধি দল আমাকে অনুরোধ করেছেন ভেবে দেখার জন্য। আমি নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। এরপর বিষয়গুলো জেনে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমি জানতে চাইবো অনুমতি দিলে অসুবিধা কোথায়। বা কোনো সমস্যা আছেন কিনা।’
বিএনপি নারী নেত্রীদের গ্রেপ্তার এবং হয়রানি করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ঢালাও ভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করছি না। অভিযোগের আলোকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তবে যারা এখন কারাগাওে আছেন তাদের বিষয়ে আমাদেও কিছু করার নেই। কারণ এখন সেটি আদালতের বিষয়। আদালতকে কোনো কিছু বলার এখতিয়ার আমাদের নেই। তবে নারী কর্মীদেও যেন আর গ্রেপ্তার করা না হয় সেজন্য তারা আমাদের অনুরোধ করেছেন। তবে এ বিষয়ে আমি তাদের বলেছি- এ বিষয়ে আমি পুলিশের সংশ্লিষ্টদেও সঙ্গে কথা বলবো। যাতে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।
খালেদার কারাজীবন নিয়ে সন্তুষ্ট বিএনপি
খালেদা জিয়া কারাগারে জেলকোড অনুযায়ী যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন তাতে সন্তুষ্ট বিএনপি। তাদের এ নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। তারা আজকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমি তাদের বলেছি কারাগারে জেল কোড অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।





