যদি আর কোনো মামলায় সরকার গ্রেপ্তার না দেখায় তবে আজই মুক্তি পেতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।
আজ সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন আদেশ দেয়ার পর হাইকোর্ট চত্বরে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চার মাসের জামিন পেলেন।
তবে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো না হলেও আজ খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা প্রায় নেই। কারণ জামিন আদেশের কপি আজই কারাগারে পৌঁছুলে বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন। কিন্তু আজ অফিস আওয়ারের মধ্যে এই কপি কারাগারের পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।
দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বেগম জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বেগম জিয়ার জামিন আদেশ দেন। এই রায়ের সার্টিফায়েড কপি এখন হাইকোর্টের রেজিস্টার অফিসে যাবে। রেজিস্টার আদেশের দুটি কপি করে একটি পাঠাবেন ঢাকার ডিসি অফিসে, অপরটি বিচারিক আদালতে। ডিসি অফিস আদেশের কপিটি ‘অ্যাকনলেজমেন্টে’ রাখবে। আর বিচারিক আদালত তা কারাগারে পাঠাবে।
কারাগারে জেলার জামিন আদেশের কপি পাওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা তা নিশ্চিত হবেন। এই নিশ্চিতের পরই বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।
উল্লিখিত পুরো পক্রিয়া আজ কার্যদিবস বেলা ৫ টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, যা অসম্ভব বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল রোববার বিশেষ আদালতের রায়ের নথি হাইকোর্টে না পৌঁছায় আদেশের জন্য আজকের দিন সোমবার ঠিক করেন আদালত। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় দুপুরের পরে নিম্ন আদালত থেকে রায়ের নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছে।
এর আগে ১৫ দিনের মধ্যে নথি পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের নজরে আনেন ৮ মার্চ বৃহস্পতিবার। পরে আদালত জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য রোববার দিন ঠিক করেন। পরে নির্ধারিত সময়ে নথি না আসায় আদালত আদেশের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।
গেলো ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন। পাশাপাশি স্থগিত করেন তার অর্থদণ্ড। এর ধারাবাহিকতায় আজ এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
গেলো ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।





