জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামীকাল জামিন পেতে পারেন। পাঁচ কারণে তার জামিন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে- তিনি একজন নারী, তার সাজার পরিমাণ, তার বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং সামাজিক মার্যাদা। এসব কারণ বিবেচনায় তিনি জামিন পেতে পারেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চও তার জামিন পাওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আদালত বলেছিলেন, ‘সাজা কম, প্রথা আছে সাজা কম হলে জামিন পেতে পারেন।’

হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার (খালেদা জিয়া) জামিন আবেদন করলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

তখন আদালত বলেন, সাত বছর পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তিকে এই আদালত (হাইর্কোট) জামিন দিতে পারেন। খালেদা জিয়া পাঁচ বছরের জন্য সাজা পেয়েছেন। তাই তাকে আদালত জামিন দিতে পারেন। তারপরও তিনি নারী ও বয়স্ক। তিনি জামিন পেতে পারেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

এই মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ আরও চারজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকার সময় এই মামলাটি করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে দেওয়া হলেও, তা এতিম বা ট্রাস্টের কাজে ব্যয় করা হয়নি।

বরং সেই টাকা নিজেদের হিসাবে জমা রাখার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু আসামিপক্ষ থেকে দেখানো হয়েছে বর্তমানে ওই অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে এবং তা সুদে-আসলে বেড়ে ছয় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে নজির হিসেবে বদির (কক্সবাজার-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি) একটি মামলার বিষয় উল্লেখ করা অযৌক্তিক হবে না।

জানা গেছে, ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকার সম্পদ অর্জনের উৎস বিষয়ক তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট রমনা থানায় কক্সবাজার-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

২০১৫ সালের ৭ মে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতে বিবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বছরের ২ নভেম্বর বদিকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতের দেওয়া তিন বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে তার (বদির) আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে জামিন মঞ্জুর করা হয়। আদেশে নিম্ন আদালতের জরিমানার রায় স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের নথি তলব করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে জরুরি অবস্থার সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ দুদক তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

একই বছরের ২৬ জুলাই দুদকের করা মামলায় মহীউদ্দিন খানকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে ঢাকা একটি বিশেষ জজ আদালত। একই সঙ্গে তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।

এরপরই তিনি আপিল দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। পরে হাইকোর্ট ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অপরাধে বিশেষ জজ আদালেতের দেওয়া রায় বাতিল ও তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গতকাল খোলা কাগজকে বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত নন। তাকে ৫ বছরের কনভিকশন দেওয়া হয়েছে পেনাল কোডের অধীনে রেগুলার ল’তে।

তিনি বলেন, কাউকে কনভিকশন দিলে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হয় তা হচ্ছে- বয়স, মহিলা কিংবা পুরুষ, সামাজিক অবস্থান এবং শারীরিক সুস্থতা। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হয়।

এছাড়া রয়েছে কত মেয়াদে কারাদণ্ড। সব কিছু বিবেচনায় তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য। কায়সার কামাল আরও বলেন, আইন যদি তার নিজস্ব গতিতে চলে তাহলে তিনি রোববার জামিন পাবেন। ইনশাআল্লাহ।